ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লতাকে বাঁচাতে এখনো বলা হয়নি স্বামীর মৃত্যুর খবর

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪৪, ১১ মার্চ ২০২৩
লতাকে বাঁচাতে এখনো বলা হয়নি স্বামীর মৃত্যুর খবর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছেন লতা। কিছুক্ষণ পরপরই নিচ্ছেন স্বামী নায়েব আলীর খবর। ভালো আছেন তার স্বামী- বারবারই হচ্ছে বলা তাকে! ভয়ঙ্কর সত্যিটা তিনি এখনো জানেন না। নায়েব আলী বেঁচে নেই। তা জানালে লতাকেও হয়ত আর বাঁচানো যাবে না। তাই স্বজনরা ক্ষণে ক্ষণে তাকে মিথ্যা বলে আসছেন।

শনিবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। 

নায়েব আলী বগুড়ার ধুনট উপজেলার নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি কৃষক ছিলেন। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে নিজ বাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সিনজিচালিত অটোতে করে রাতেই তাকে নেয়া হয় শজিমেক হাসপাতালে। স্বামীকে হাসপাতাল পাঠিয়ে আরেক অটোতে ভাতিজি মৌসুমীকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন লতা বেগম। কিন্তু পথেই ঘটে বিপত্তি। তাদের অটো বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সাজাপুর এলাকায় এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই দিন দিবাগত রাত একটার দিকে বীপরিতগামী দ্রুতগতির একটি বাস ওই অটোকে ধাক্কা দেয়। এতে লতা, মৌসুমী ও অটোচালক ইনজিল তালুকদার আহত হন। অটো চালকও ধুনটের নশরতপুরের বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন ইনজিল।

Advertisement

নায়েব আলীর ভাতিজা রাকিব হাসান বলেন, নায়েব আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চাচাকে হাসপাতালে দেখতে রাতেই চাচি আরেকটি অটো নিয়ে রওনা দিলে পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। চাচি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চাচার মৃত্যুর খবর দিলে এ অবস্থায় হয়ত চাচিকেও বাঁচানো যাবে না। এ কারণে তাকে এখনো চাচার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়নি।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বগুড়া ছিলিমপুর (মেডিকেল) পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লালন হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে অটোচালক আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!