ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাছ ধরতে গিয়ে মিললো বস্তা, খুলতেই যা দেখলেন গ্রামবাসী

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৭, ২১ মার্চ ২০২৩
মাছ ধরতে গিয়ে মিললো বস্তা, খুলতেই যা দেখলেন গ্রামবাসী
ফাইল ছবি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের বান্না গ্রামের একটি পুকুর থেকে বিধবা গৃহবধূ শাহনাজ বেগমের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বস্তার ভেতর ৮টি ইট দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

মঙ্গলবার সকালে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে, সোমবার বিকেলে উদ্ধারকৃত নিঃসন্তান শাহনাজ ওই গ্রামের মৃত কদম আলী শাহ’র স্ত্রী। 

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, পুকুরের মালিক বরিশাল নগরীর বাসিন্দা আইনজীবী সেলিনা বেগম। তিনি মাছ ধরার জন্য পুকুর সেচ দেন। এ সময় পুকুরের মাঝ বরাবর তলদেশে খুঁটির সঙ্গে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা লাশটির সন্ধান মেলে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বস্তাটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আনার পর দেখা যায় বস্তার ভেতর অর্ধগলিত লাশের সঙ্গে ৮টি ইট দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবে লাশ ভেসে না ওঠে। এ সময় নিহতের স্বজনরা শাড়ি ও চুরি দেখে লাশ শনাক্ত করেন। তারা জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহনাজ নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে একজন গ্রেফতার হয়। 

Advertisement

নিহতের ভাইয়ের ছেলে আল আমিন জানান, লাশটি যে প্লাস্টিকের বস্তায় ছিল তার ওপর ‘আমান ফিড’ লেখা। গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার ঘর থেকে ওই ধরনের বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার ধারণা, ফুফু শাহনাজ বেগমকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেন ইদ্রিস। এরপর ইদ্রিসের ঘরে থাকা বস্তায় ভরে ওই পুকুরের ভেতর খুঁটি গেড়ে বেঁধে রাখা হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা এসআই ওবায়দুল কবির বলেন, লাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছে নিখোঁজের দিনই তাকে হত্যার পর লাশ গুম করতে পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়। ২৪ দিন পানির মধ্যে থাকায় লাশে পচন ধরেছে। তবে কীভাবে হত্যা করেছে তা বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের এসআই কাজী ওবায়েদুল কবির জানান, এ ঘটনায় ১ মার্চ নিহত শাহনাজের ভাইয়ের ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন। তার ধারণা শাহনাজকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই ইদ্রিসকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সে কোনোভাবেই স্বীকার করেনি। বর্তমানে ইদ্রিস কারাগারে রয়েছেন। তবে ঘটনার ক্লু হিসেবে ইদ্রিসের ঘর থেকে শাহনাজকে যে বস্তায় ভরে রাখা হয় ওই ধরনের বস্তা পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক তদন্তপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইদ্রিসকে রিমান্ডে নেয়া বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ৮টি ইট দিয়ে লাশ বস্তায় ভরা হয়। বস্তাটি যাতে ভেসে না ওঠে এ জন্য পুকুরের তলদেশে দুই প্রান্তে দুটি রশিতে খুঁটি দিয়ে গেঁথে রাখা হয়। উদ্ধারকৃত নারীর হাতের চুড়ি ও শাড়ি দেখে লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!