সৌদিতে বাস দুর্ঘটনা, খোঁজ মিলছে না মাদারীপুরের যুবকের
সৌদি আরবে বাস দুর্ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন মাদারীপুরে যুবক রুহুল আমিন রনির (৩০)। সোমবার সকালে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের শেষ কথা হয়েছিলো। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা রুহুল আমিনের মৃত্যুর সঠিক তথ্য না পেয়ে, ধারণা করছেন রুহুল আমিন রনি আর বেঁচে নেই। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
রুহুল আমিন রনি মাদারীপুর সদর উপজেলার দিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইসাহাক মাতুব্বরের ছেলে।
.png)
বৃহস্পতিবার সকালে রুহুল আমিন রনির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠান ভর্তি মানুষ। চলছে স্বজনদের আহাজারি। মা রাবেয়া বেগম আর বোন রুনা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। প্রতিবেশীরা অনেকেই ছুটে এসেছেন রুহুলের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে।
জানা যায়, রুহুল আমিন রনি বাড়িতে থাকাকালে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য গত বছরের জুলাই মাসে ৪ লাখ টাকা ঋণ করে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে খামিজ শহরের একটি ভাতের হোটেলে কাজ করতেন।
গত সোমবার ওমরাহ পালনের জন্য বাসে করে সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে রওনা দেন। সোমবার সৌদির স্থানীয় সময় বিকেলে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ওই বাসের ১৮ বাংলাদেশি যাত্রী নিহত হন।
রুহুল আমিন রনির মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার বাজান অনেক ভালো ছিলো। কখনো নিজের কষ্টর কথা আমাগো কইতো না। আমাগো ৫টা মানুষের ভরসা ছিলো। আইজ আল্লাহ আমার বাজানরে কই রাখছে জানি না। তোমরা আমার রনিরে খোঁজ আইন্না দাও। ওরে আমি দেখতে চাই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা ইউএনও মো. মাইনউদ্দিন বলেন, আমরা এখনো নিশ্চিত নই রুহুল জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তবে তার পরিবারের ধারণা তিনি মারা গেছেন।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, দুতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।