লক্ষ্মীপুরে রমজানের শুরু থেকেই দুধ কলার বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। ক্রেতা সাধারণ ভিড় জমাচ্ছে এসব পণ্যের দোকানিদের সামনে। বেচাকেনা হচ্ছে বেশ ভালো। দুধ নিয়মিত দোকানিরা বিক্রি করলেও কলা বিক্রিতে যোগ হয়েছে মৌসমী ব্যবসায়ী।
অল্প সময়ে ভালো লাভের আশায় কলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে এসব কলা। কেউ ফেরি করে কেউ আবার ফুটপাতে বসে কেউবা নিদিষ্ট স্থানে বসে বিক্রি করছে বিভিন্ন জাতের কলা। তবে এসব কলা জাতবেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে অনেক। দুধের দামও বেড়েছে অনেক। কলা রোজার আগে বিক্রি হতো জাতবেদে ডজন প্রতি ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে দেড়শ দুইশ টাকায়। একই অবস্থায় রোজার আগে দুধ লিটার প্রতি বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
.png)

তবে দুধ কলার দাম বাড়লেও থেমে নেই বেচাকেনা। বাড়তি দামে কিনতে এসেও অনেকে পাচ্ছেন না। তাই সিরিয়াল দিয়ে কিনতে হয় অনেক ক্রেতাদের। লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কে ৭ জন দুধ বিক্রেতা বসেন। তারা গ্রাম থেকে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে এসব দুধ সংগ্রহ করে নিয়ে আনেন। আবার বেপারিরা কখনো কখনো এনে দেয়। সকাল ১০ টাকা থেকে শুরু বেচাকেনা আর শেষ হয় বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। রমজানের আগে দুপুরেই শেষ হয়ে যেত। এখন বেপারি দৈনিক দুইবার গাভী থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। ফলে দুধের যথেষ্ঠ উৎপাদন হয়। এদিকে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে কলা সংগ্রহ করে বাজারে এনে পাইকারিভাবে বিক্রি করেন বেপারিরা। আর শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বসে খুচরা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

ক্রেতারা বলেন, রমজানের আগে কলা দুধের দাম ঠিক ছিল। কিন্তু রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে প্রয়োজেনের খতিরে কিনতে হয়। কারণ সেহরিতে দুধ কলা ছাড়া পূর্ণতা পাওয়া যায় না। তাই বাড়তি দামেও কিনতে হচ্ছে। তবে এই দুটি পণ্য কিনতে কষ্ট নিতে হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বাজারে কেনাকাটার সঙ্গে দুধকলার লিস্ট থাকবেই। অর্থাৎ অন্যসব পণ্য কম কিনলেও দুধ কলা কেনার প্রস্তুতি নিয়েই বাজার যান সবাই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। তাই খরচ অনুপাতে বিক্রি করা দুধ বাড়তি বিক্রির সুযোগ নেই। কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেড়েছে দুধের দাম। রমজানের পরে আশা করছি আবার পূর্বের দামে ফিরে আসবে। তারা বলছেন, দাম বাড়লেও চাহিদা রয়েছে। বেচাবিক্রিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবাই ব্যস্ত দুধ বিক্রিতে।
সবমিলিয়ে দুধের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন একেকজন দুধের বেপারি দুধ বিক্রি করেন দুই থেকে তিন মণ। সুতরাং লক্ষ্মীপুর শহরে ৭ জন বেপারি দৈনিক দুধ বিক্রি করেন অন্তত ২১ মণ। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি তো আছেই। লক্ষ্মীপুর শহরের মতো সব স্থানে একই অবস্থা। দুধ কলার চাহিদা রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ধুমধাম করে। এসব দুধ আসে গ্রামের প্রত্যাঞ্চল থেকে। খামারিরা দৈনিক দুইবার দুধ সংগ্রহ করে।