শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত মা ফারজানা খাতুনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সামন থেকে আটক করা হয়। এর আগে শনিবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউপির চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত ফারজানা খাতুন একই এলাকার মৃত রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাড়ে চার বছর আগে ফারজানার সঙ্গে শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারি ঘুঘরাকান্দি ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার কদর আলীর ছেলে আব্দল হালিমের বিয়ে হয়। এর মধ্যেই ফারজানা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। ফারজানা শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে প্রথম রোজার দিন বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
.png)
গত বুধবার সকালে রিয়া মনিকে নানা বাড়ি থেকে শেরপুরে দাদার বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা। পরে ওই দিন বিকেলে শিশুটির নানি তাকে আবার নিয়ে শেরপুর থেকে জামালপুরে নিজ বাড়িতে চলে আসে। শনিবার সকালে শিশুটিকে তার মা ফারজানা খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশু রিয়াকে উদ্ধার করে জামালপুর হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ফারজানার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা জানান, ফারজানা যখন নবম শ্রেণিতে পড়ে তখন তার বিয়ে হয়। তার স্বামী ফারজানাকে এসএসসি পাস করায় এরপর এইচএসসিতে ভর্তি করিয়ে দেন। এর মাঝেই ফারজানা একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।
শিশু রিয়া মনির বাবা আব্দুল হালিম বলেন, সকাল ৯টার দিকে ফারজানা আমাকে ফোন দেয়। সে বলে মেয়ের গলায় বরইয়ের বিচি আটকে গেছে। মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। হাসপাতাল আসার পর চিকিৎসকরা বলেন, আমার মেয়েকে বিষপান করানো হয়েছে। বিষপানের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে রিয়া মনিকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় মা ফারজানা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।