ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরে ৪০.৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় গলছে রাস্তার বিটুমিন

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০০, ১৪ এপ্রিল ২০২৩
যশোরে ৪০.৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় গলছে রাস্তার বিটুমিন
ছবি: সংগৃহীত

মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা দেশই। ঘরে-বাইরে অসহনীয় গরম, বাতাসে যেন আগুনের হল্কা। গত তিনদিন ধরে যশোরে ৩৯ দশমিক দুই থেকে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। 

এ কারণে গোটা জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও তীব্র এ তাপপ্রবাহে ধর্মতলা ও পালবাড়ি খয়েরতলা মহাসড়কের বিটুমিন গলে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুনেছি রাস্তার বিটুমিন গলে যাচ্ছে। অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি সংশ্লিষ্ট এলাকায়। তিনি ফিরে আসার পর বিস্তারিত বলতে পারবো। 

Advertisement

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পালবাড়ি খয়েরতলা এলাকার রাস্তা পাঁচ-সাত বছর আগের তৈরি। সড়কে সাধারণত দুটি গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। আগে ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার জন্য সড়কে ৮০/১০০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হতো। পরে গবেষণা করে বেশি তাপমাত্রা সহনশীল ৬০/৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গ্রেডের বিটুমিনের দামও বেশি।

যশোর বিমানবন্দর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটি সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দফতর থেকে জানা যায়, শুক্রবার যশোরে সর্বোচ্চ ৪০. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ২৪ শতাংশ। এর আগের দিন যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৪০. ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১২ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শহরের এক রিকশাচালক জানান, গত দুইদিন ধরে বেলা ১২টার পর ৪টা পর্যন্ত শহরে লোকসমাগম খুবই কম। সামান্য খাটুনিতেই প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার জো। ঘন ঘন পানি খেতে হচ্ছে, পেটের জ্বালায় বের হতে হয়। 

যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি এলাকার এক বাসিন্দা শহরে এসেছিলেন সন্তানদের কাপড়চোপড় কিনতে। তিনি বলেন, এ সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকে। কিন্তু আজ তিন-চার দিন এত বেশি যে রাস্তায় বের হওয়া দায়। গা দিয়ে দরদর করে ঘাম বের হচ্ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ, রোজা আছি, খুব কষ্ট হচ্ছে। 

যশোর কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মহসিন আলী বলেন, সাড়ে ৪টার দিকে শানতলা থেকে পালবাড়ি হয়ে শহরে ঢুকেছি। সূর্যের তেজ যেমন, রাস্তা থেকেও একই রকম ঝাঁজালো তেজ চোখেমুখে লাগছে। মনে হচ্ছে গরম হাড়ি থেকে বাষ্প বের হয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়ে দিচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!