ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঈদ জামাত শেষে কবরস্থানে স্বজনরা

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২২ এপ্রিল ২০২৩
ঈদ জামাত শেষে কবরস্থানে স্বজনরা
ঈদের দিন করব জিয়ারত ও দোয়া করেন স্বজনরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জন্মিলে মৃত্যু আছে। এটাই চিরন্তন সত্য। প্রত্যেক পরিবারের কারো দাদা-দাদি, কারো মা-বাবা কিংবা ভাই-বোন বার্ধক্যসহ নানা কারণে মারা গেছেন। জীবিতদের দায়িত্ব তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কবর জিয়ারত, দোয়া ও দান খায়রাত করা। স্বজনরা সময় সুযোগ অনুযায়ী কেউ শুক্রবার, কেউ বা শবে বরাত, শবে কদর, কেউ ঈদে ও মৃত্যুবার্ষিকীতে করব জিয়ারত ও দোয়া করে থাকেন। তবে ঈদের সময় কবর জিয়ারত সব চেয়ে বেশি দেখা যায়।

শনিবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের তারাগন ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন কবরস্থানে অসংখ্য লোকজনকে কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে দেখা যায়। শুধু তারাগন নয় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এই বিশেষ দিনে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় জিয়ারত করছেন। পাশাপাশি অনেকে আবার দান খায়রাত ও অসহায় লোকদেরকে খাবার খাওয়াচ্ছেন। অন্য সময়ের চাইতে এই দিনে বেশি কবর জিয়ারত করতে দেখা যায়। কারণ কিছু কিছু গল্প থাকে যা বলা যায় না। কোনো কোনো ছবি কাউকে দেখানো যায় না। অনেক প্রাপ্তির জীবনেও অনেক হারানোর গল্প থাকে। দুনিয়ার অনেক কিছু ফিরে পাওয়া যায় কিন্তু হারানো বা মৃতদের আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই জীবিতরা সাধ্যানুযায়ী তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন।

ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে ঐতিহ্যবাহী তারাগন ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন কবরস্থান জিয়ারত করতে দেখা যায়। এই দিনে কর্ম ব্যস্ত লোকেরা সবাই একত্রিত হয়ে সম্মিলিতভাবে কবর জিয়ারত ও দোয়া করছেন।

Advertisement

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। সাধারণভাবে ঈদ মানে হচ্ছে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এক চিরায়ত প্রথা। এসব কিছুর পরেও কবরস্থানে অনেক আপনজন, পরিজনদের নীরব উপস্থিতি ঘটছে। শত কষ্ট সহ্য করে দু’হাত তুলে তারা মহান আল্লাহর কাছে মৃতদের শান্তি কামনায় দোয়া করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন কবরস্থান, মসজিদ মাঠ সংলগ্ন পুকুরপাড় সংলগ্ন কবরস্থানে মুসল্লিদের ভিড়। সবাই কবরস্থানের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মৃতদের জন্য পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত করছেন। এ সময় অনেককেই চোখের পানি ফেলে দু’হাত তুলে প্রিয়জনদের জন্য মোনাজাত করতে দেখা যায়।

পৌরশহরের তারাগন এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক প্রিয়জন পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তারা এখন কবরবাসী। তাদের জন্য দোয়া করতে মূলত এখানে আসা। কর্মব্যস্ত থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখানে আসতে পারি না। তাই প্রতি বছর দুই ঈদে চেষ্টা করি এখানে আসতে। আমাদের বাড়ির ছোটবড় সবাই সম্মিলিতভাবে কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছি।

উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুরপহেলা এলাকার আওয়াল মিয়া বলেন, মসজিদের পাশে কবরস্থান রয়েছে। এখানে দাদা-দাদি ও আত্মীয় স্বজনদের কবর দেওয়া হয়েছে। আমি প্রায় সময় সন্তানদের নিয়ে এখানে কবর জিয়ারতে আসি। আজকের ঈদের এই বিশেষ দিনে বাবা-চাচা ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করতে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!