প্রকৃতি ও গঠনগত দিক বিবেচনা করলে গুলিয়াখালী সৈকত অন্যান্য সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ সৈকতের পশ্চিমে দিগন্ত জোড়া জলরাশি, আর পূর্বে পাহাড়। কেওড়া বনের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল। সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে কেওড়া বন। সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস গুলিয়াখালীকে অন্যান্য সৈকত থেকে করেছে অনন্য। গত বছর এটিকে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পর্যটন মন্ত্রণালয়।
সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয় গুলিয়াখালী সৈকতে। শনিবার ঈদের দিন বিকেল থেকে গুলিয়াখালীতে পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
.png)
সম্প্রতি এটিকে সাজিয়ে তুলতে নানা উদ্যোগের কথা জানায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এখানে রিসোর্ট, ওয়াকওয়েসহ শুরু হচ্ছে সেতু নির্মাণের কাজ। নকশা অনুযায়ী- বেড়িবাঁধ থেকে ইংরেজি ওয়াই আকৃতির ১০ ফুট ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে গুলিয়াখালীতে। এর দুই দিকে থাকবে রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, সব ঋতুতে পর্যটকরা যেন সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য একটি নকশা করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্ষাকালে জোয়ারের সময় সৈকত ডুবে যায়। তখন পর্যটকদের বেড়িবাঁধে অপেক্ষা করতে হয়। ওয়াকওয়েসহ সেতু নির্মাণ হলে পর্যটকরা সারাবছর গুলিয়াখালী সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে ও সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে গুলিয়াখালী সৈকতের অবস্থান।
গুলিয়াখালী সৈকতে যেভাবে যাবেন: চট্টগ্রাম শহর কিংবা ঢাকা থেকে গুলিয়াখালী সৈকত দেখতে হলে প্রথমে যেতে হবে সীতাকুণ্ড বাজার। সেখান থেকে রয়েছে অটোরিকশা।

চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুণ্ড: সীতাকুণ্ড এলাকাটি মহাসড়কের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে নগরীর অলংকার মোড় কিংবা একেখান মোড় থেকে লোকাল বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। এছাড়া কদমতলী থেকেও বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড।
ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড: ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এসি-ননএসি বাস পাওয়া যায়। এসব বাসে খুব সহজেই যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড।
এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনে গিয়ে নামতে হবে ফেনী রেলস্টেশনে। এরপর রিকশা কিংবা অটোরিকশায় যেতে হবে মহিপাল বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নামলে সেখান থেকেও বাসে যাওয়া যাবে সীতাকুণ্ড। তবে দূরত্ব ও সময় বিবেচনায় ফেনী রেলস্টেশনে নেমে যাওয়া ভালো।
কোথায় থাকবেন: সীতাকুণ্ড সদরে রাত্রিযাপনের জন্য একাধিক মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া উন্নতমানের হোটেলে থাকতে চাইলে যেতে হবে চট্টগ্রাম শহরের অলংকার কিংবা আগ্রাবাদ এলাকায়। এছাড়াও জিইসির মোড়, স্টেশন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় একাধিক উন্নতমানের হোটেল রয়েছে।
কোথায় খাবেন: দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের জন্য সীতাকুণ্ডেই একাধিক মাঝারি মানের খাবারের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে আল-আমিন নামে একটি রেস্টুরেন্টের বেশ সুনাম রয়েছে।
আরো যা দেখতে পারেন: সীতাকুণ্ডের পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে- উপকূলীয় বনাঞ্চল, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক, সহস্রধারা ঝরনা, সুপ্তধারা ঝরনা, খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা ইত্যাদি।