ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ধান মাড়াই মেশিনে কৃষকের স্বস্তি

জুলফিকার আলী কানন, মেহেরপুর
প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ১৯ মে ২০২৩
ধান মাড়াই মেশিনে কৃষকের স্বস্তি
মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করছেন শ্রমিকরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই মেশিনেই স্বস্তিবোধ করছেন কৃষকরা। ফলে কৃষকদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ মেশিন। স্বল্প খরচে ও অল্প পরিশ্রমে এখন কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন।

কৃষকদের এখন আর গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। এক সময় বোরো ও আমন ধান কেটে মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর শক্ত কিছুর উপর ধানের আঁটি ধরে পিটিয়ে ধান বের করতে হতো। এগুলো ছিল সময় সাপেক্ষ। এছাড়া শ্রমিকও লাগতো বেশি। এরপর এল পা দিয়ে ব্যবহৃত মেশিনে ধান মাড়াই। পরবর্তীতে এসেছে শ্যালো মেশিনে ধান মাড়াই। তবে সময়ের পরিক্রমায় দিন যতই যাচ্ছে ততই আমরা যন্ত্র চালিত হয়ে পড়ছি।

আধুনিক যুগে ধান মাড়াইয়ে যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেটি দিয়ে কম সময়ে যেকোনো পরিবেশে ধান মাড়াই করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ এ ধান মাড়াই যন্ত্র হচ্ছে পাওয়ার থ্রেসাল মেশিন। যা গ্রাম-গঞ্জে ভূতের মেশিন নামে বেশি পরিচিত। বর্তমানে  মেহেরপুরের কৃষকদের কাছে ধান মাড়াইয়ে এ যন্ত্রের ব্যাপক কদর রয়েছে। যেখানে ৫০০-৬০০ টাকা দিনে মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। সেখানে এক মেসিনেই সব কাজ সেরে নিচ্ছেন কৃষকরা।

Advertisement

গাংনীর শিশিরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, আমার ৩ বিঘা জমিতে ধান আছে। এলাকায় শ্রমিক সংকট। ধান কাটার জন্য ৩-৪ জন শ্রমিকের কাছে ধর্ণা দিয়েও পাওয়া যায়নি। আমি ধান মাড়াই মেশিন-ওয়ালার কাছে গিয়ে ঠিক করেছি। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় আমার সব ধান কেটে মাড়াই করে বস্তাবন্দি করে দিয়েছে। এতে সময় এবং খরচও কমেছে। মেশিনে এক বিঘা জমির ধান কাটতে মাত্র ২৭০০ টাকা লাগে। অথচ, এক বিঘা জমির ধান শ্রমিক দিয়ে কাটতে সময় লাগে বেশি। আবার খরচ লাগে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

জোড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক রহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমার সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান ছিল। শ্রমিকের পেছনে না ঘুরে মেশিনে ধান কেটেছি। এক বিঘা জমি মেশিনে কাটা মাড়াই করতে খরচ হয়েছে ২৭০০ টাকা। ধান জমি থেকে কেটে মাড়াই করে বস্তায় তুলে দিয়েছে। অথচ, এক বিঘা জমির ধান শ্রমিক কাটতে গেলে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা। তারা শুধু ধান কেটে মাড়াই করে দেবেন। যে কারণে, কৃষকরা এখন মেশিনের দিকেই ঝুঁকছেন।

ঐ গ্রামের আব্বাছ আলী বলেন, সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচাতে আমি মেশিন দিয়ে ধান কেটেছি।

তারা জানান, ধান কাটা শ্রমিক সংকটের কারণে আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসাল মেশিনের ব্যাপক কদর বেড়েছে কৃষকের কাছে। কোনো রকম মাঠ থেকে ধান বাড়িতে বা রাস্তায় নিয়ে এসে এ মেশিন দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে। এ মেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা ৮০০ টাকা দরে মাড়াই করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: মেহেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!