ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘুরে আসুন মারমেইড রিসোর্ট-সুইমিং পুল

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার 
প্রকাশিত: ১১:৩২, ২ জুন ২০২৩
ঘুরে আসুন মারমেইড রিসোর্ট-সুইমিং পুল
মারমেইড বীচ রিসোর্ট

হোক না শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরৎকাল তাতে কী আসে যায়? সব ঋতুতে প্রাণবন্ত ও সজীব কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন রেজুখাল লাগোয়া মারমেইড রিসোর্ট এবং সুইমিং পুল। দেখতে যেমন অসাধারণ ঠিক তেমনি অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর।

সাগরের জলতরঙ্গ বিশাল বিস্তৃত সী বীচ, শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা নরম তুলতুলে বালু ও দোয়াশ মাটির মিশ্রণে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, জোৎসা রাতের আলো আঁধারি পরিবেশ, সূর্যোদয় সূর্যাস্ত এবং প্রকৃতি-মানুষের তৈরি সাজসজ্জায় অনন্য চির যৌবনা প্রমীলাদেবী পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে অবিরত। নিরব নিস্তব্ধতা, নির্জন পরিবেশে সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে চলে যেতে হবে মারমেইড রিসোর্ট ও সুইমিং পুল। 
 
আবদুর রাজ্জাক। বাড়ি দিনাজপুর থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। সম্প্রতি স্বপরিবারে কক্সবাজার ঘুরতে গেছেন। নির্জন পরিবেশ খুঁজতে গিয়ে চলে আসেন মারমেইড রিসোর্টে। সেখানে টানা পাঁচ দিন। তিনি মারমেইড রিসোর্টের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, চোখের সামনে অপূর্ব এই দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায় বুঝতেও পারি না। সকালে উঠে শুনলাম কিছুটা দূর থেকে ভেসে আসছে সমুদ্রের গর্জন। কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম সমুদ্র এসে গেছে চোখের সামনে। দু’পা হাঁটলেই নীল সমুদ্র আপনার পা ভিজিয়ে দিয়ে যাবে। সমুদ্র দেখতে দেখতে যখন নাস্তা বা বিকেলের চা খাচ্ছেন, তখন পেছনে বেজে চলেছে সুরের মূর্ছনা।

সুইমিং পুল

Advertisement

মারমেইড বীচ রিসোর্টটি যেহেতু কক্সবাজার মূল শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে—সেখানে সাগরের পাড় ঘেঁষে যে পথ দিয়ে যেতে হয় তার একদিকে ঢেউ, সমুদ্রের গর্জন, ঝাউ-নারকেলের সারি, অন্য পাশে পাহাড়। এই রিসোর্টে ঢোকার পর আপনি ভুলেই যাবেন কোথা থেকে, কতটা পথ পাড়ি দিয়ে আপনি এখানে এসেছেন। পৃথিবীর কোন কোলাহল, চিন্তা-ভাবনা আপনাকে আর স্পর্শ করতে পারবে না। ফুল, লতাপাতা দিয়ে ঘেরা বারান্দায় আপনাকে অভ্যর্থনা জানানো হবে ডাব আর ফুল দিয়ে। 

সুনশান নীরব এই রিসোর্টটিতে রয়েছে অনেকগুলো কটেজ। সাজানোর ঢংটা থাই ও ইন্দোনেশীয় স্টাইলে হলেও, কটেজগুলো সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় জিনিস দিয়ে। দারুণ সব হারিকেন ও কাগজে মোড়ানো বাতি, চারিদিকে বড় বড় গাছ, ফুলের গাছ, সবজী বাগান- এক কথায় বলতে হয় এলাকাটি ছায়া সুনিবিড়, শান্তির নীড়। ঘরের ভেতরের ডেকোরেশনও ফাটাফাটি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে-তকতকে। রিসোর্টজুড়ে অসংখ্য ফ্রেসকো ও দেয়াল চিত্র। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ছোট ছোট জলাধার। তাতে ফুটে আছে নীলপদ্ম। কটেজের সঙ্গে লাগোয়া সুইমিং পুল। কোনকিছুরই অভাব বোধ করবেন না ট্যুরিস্টরা।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরের পাশাপাশি আর যে দিকটি আমাকে মোহিত করেছে, তা হচ্ছে এই রিসোর্টের ফ্যাসিলিটিগুলো। পর্যটকদের সুবিধার কথা ভেবে ছোট ছোট কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, যা আমি অন্য কোথাও পাইনি। যেমন,এখানে-সেখানে অনেক বসার জায়গা, সাগরের পাশ ঘেঁষে ছোট ছোট তাকিয়া, সাগরের মধ্যে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন আকৃতির বসার জায়গা তৈরি করা আছে। এর মানে হচ্ছে আপনি যেন যেখান থেকে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে, যখন ইচ্ছা সাগর দেখতে পারেন। শুধু কি চেয়ার? আছে লেখার টেবিল, ছবি আঁকার জন্য ইজেল এবং সবচেয়ে বড় কথা পানির বোতল, যাতে হঠাৎ পানির পিপাসা পেলে হাতের কাছেই পাওয়া যাবে পানি। আর আছে জায়গায় জায়গায় অসংখ্য প্লাগ পয়েন্ট, যেন কোনকিছুতে চার্জ দিতে হবে বলে আড্ডায় বা গল্পে বিঘ্ন না ঘটে। দূরের কটেজে যাওয়ার জন্য টুকটুক রাখা আছে এবং সেই টুকটুকে সহজে ওঠার জন্য আছে ছোট টুলের ব্যবস্থাও। আহ কি যে আরাম!

খাওয়ার জায়গাটা অনেক বড় এবং খুব সুন্দর করে সাজানো। নানাধরনের মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়— বাঙালি, ইংলিশ, চাইনিজ, মেক্সিকান, ইটালিয়ান, ইন্ডিয়ান। ফল আর জুসের ছড়াছড়ি। যে যা খেতে চায়, তাই খেতে পারবে। কোথাও বেড়াতে গেলে খাওয়া-দাওয়াটা খুব প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। আর আমরা জানি সাগর বা নদীর বাতাস মানুষের ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। এখানে সুবিধা হল আপনি যেখানে খুশি সেখানে বসেই খাবারের অর্ডার দিতে পারেন, খাবার পৌঁছে যাবে। ভোর ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চুলা জ্বলছে। খরচ কেমন হতে পারে তা দেখার জন্য ভিজিট করুন রিসোর্টের ফেসবুক ও ওয়েবসাইট।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রিসোর্টের ঠিক মাঝখানে ও সমুদ্রের ধারে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য দু’টো খেলার জায়গা। রয়েছে ছোটদের ও বড়দের জন্য বাইসাইকেল। মন চাইলে সাইকেল নিয়ে পুরো জায়গাটা টহল দেয়া যাবে, সাগরের পাশ ঘেঁষে ঘুরে আসা যাবে। আর আছে কোয়াক, বীচ কার, ছোট ছোট নৌকা। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব ভালো। 

মানবাধিকার নেত্রী ও প্রতিথযষা সাংবাদিক সাহেলী পারভিন ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে চলেযান সেই মারমেইড রিসোর্টে গত সোমবার সঙ্গে তার এক বান্ধবী। তিনি মারমেইড রিসোর্টের সুইমিং পুলের বর্ণনা করেছেন এ প্রতিবেদকের কাছে। সহপাঠীসহ নেমে পড়েন উত্তর দক্ষিণে ৩০০ দৈর্ঘ্য প্রস্ত ২৮ ফুট। নীল জলের ফোয়ারা। পশ্চিমে সমুদ্র সৈকত ও দক্ষিণে রেজুখাল। পূর্বপাশে রেস্তোরাঁ। মাঝখানে নান্দনিক সুইমিং পুল। সকাল সন্ধ্যা অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে সাঁতার কাটেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার দেখা মেলে এই সুইমিং পুলে। তবে বচ্চাদের জন্য রয়েছে আলাদা সুইমিং পুল। এটি ৩০০ লম্বা ১০ ফুট প্রস্থ। এখানে বিপদের আশংকা খুবই কম। কারণ এটির গভীরতা মাত্র সাড়ে চার ফুট। মালেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে এ ধরনের সুযোগ সুবিধা। 

মারমেইড  রিসোর্ট

মারমেইড রিসোর্টে সুইমিং পুল সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরি করতে সময় লেছে দেড় বছর। কেউ যদি ডে ক্লাব ব্যবহার করতে চায় তাকে মাথাপিছু গুনতে হবে দুই হাজার টাকা। এক ঘণ্টার জন্য ৯০০ টাকা। তবে রিসোর্টের অতিথিদের জন্য সুইমিং পুল ফ্রি। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে সুইমিং পুলের সাঁতার কাটা। এক সঙ্গে নয়নাভিরাম সকল সুবিধা পাচ্ছেন মারমেইড রিসোর্টে। 

কিভাবে যাবেন

কক্সবাজার শহর থেকে প্রাইভেট গাড়ি ও অটোরিকশা গেলে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের পথ। যেতে যেতে দেখা মিলবে দরিয়ানগর, হিমছড়ি পর্যটন স্পট। চাইলে সেখানে ও কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন। নির্জন মেরিন ড্রাইভ সড়ক যদি বা এখন কিছুটা হলে ব্যস্ত সড়ক। তবে ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে এ সড়কে।হাতের বায়ে পাহাড় আর ডানে বিশাল বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ও ঢেউ। রাস্তার সারিসারি গাছ, মাঝে মাঝে দেখা মিলবে সারিবদ্ধ ঝাউবীথি। হিমছড়ি ও আশে পাশের পাহাড়ে বহমান একাধিক ঝর্ণাধারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!