উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাগান মালিক মো. আকছেদ প্রামানিক বলেন, কাঁঠাল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এর কোনো অংশই পরিত্যক্ত থাকে না। কাঁঠাল যেমন জনপ্রিয়, তেমনি কাঁঠালের বিচিও খুব জনপ্রিয় খাবার।
কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা জানান, জ্যৈষ্ঠের শেষ ও আষাঢ় মাসের শুরু থেকে এখানকার হাট-বাজারে কাঁঠাল কেনাবেচা জমে উঠে।
.png)
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠাল গাছগুলো ভরে গেছে ফলে ফলে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত ধরেছে কাঁঠাল। বছর দশেক আগেও আম-কাঁঠালের বাগান ছিল এ এলাকায়। এখন শুধু আমের বাগানই দেখা যায়। আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে কাঁঠালগাছ। তাই বাগানের সংখ্যাও হাতে গোনা। তবে এখন বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, স্কুল-কলেজ চত্বরে প্রচুর কাঁঠালগাছের দেখা মেলে।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম জানান, এক সময় কাঁঠালের অনেক কদর ছিল। শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হতো। একটি কাঁঠালের বিনিময়ে একজন শ্রমিক তার গৃহস্থের সারাদিন কাজ করে দিতেন। এখন কাঁঠাল গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এসব দৃশ্য দেখা যায় না।
কাঁঠাল ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ জানান, বাজারগুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই প্রতিবছর এক থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেন। দুই থেকে তিন মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম থাকে। তবে এবার কাঁঠালের ফলন একটু কম।

পুষ্টিবিদ ডা. জান্নাতুন নেছা বলেন, কাঁঠাল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। একটি কাঁঠালে রয়েছে পৃথক কয়েক প্রকার ভিটামিন ও পুষ্টি। পাকা কাঁঠাল এবং তরকারি হিসেবে কাঁঠাল খেলেও আলাদা ভিটামিন পাওয়া যায়। কাঁঠালের বিচিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি রয়েছে। তাছাড়া কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে কাঁঠাল হয়ে থাকে। প্রতিটি মৌসুমেই মানুষকে পর্যাপ্ত কাঁঠাল খাওয়া উচিত। কারণ কাঁঠাল একটি রোগ প্রতিরোধক খাবার।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা শায়খুল ইসলাম জানান, ভেড়ামারায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁঠাল বাগান নেই। বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার দুই পাশে ২০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে প্রতিবছর উৎপাদন হয় ১০ হাজার টন কাঁঠাল। এসব কাঁঠাল উপজেলায় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
তিনি আরো জানান, এলাকায় কোনো কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা নেই। তবে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আরো উপকৃত হবে।