সম্ভ্রম বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ, আইসিইউতে সেই গার্মেন্টকর্মী
শুক্রবার রাত ১১টা। পোশাক কারখানায় কাজ শেষে মিনিবাসে বাসায় ফিরছিলেন এক নারী গার্মেন্টকর্মী। পথে ভালুকা সিডস্টোর এলাকায় অন্য যাত্রীরা নেমে যান। ওই সময় ওই নারী একা থাকায় চলন্ত বাসেই ধর্ষণচেষ্টা চালান চালক ও দুই সহকারী। প্রতিরোধের চেষ্টা করেন নারী। একপর্যায়ে সম্ভ্রম বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভালুকা সীডস্টোর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এখনো শঙ্কামুক্ত নন তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চেতনা ফেরেনি পুরোপুরি। এমনকি অস্ত্রোপচার করার মত অবস্থাতেও নেই ওই নারী।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’র রেজিস্টার ডা. খায়রুল কবির।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারীর শুধুমাত্র অক্সিজেন লেভেল ঠিক আছে। তাই লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। তার জ্ঞানের মাত্রা আছে ৮। যেখানে স্বাভাবিক মানুষের মাত্রা থাকে ১৫।
ডা. খায়রুল জানান, রোববার সকালে আবারো সিটিস্ক্যান করছেন নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা।
জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মাওনা থেকে রিদিশা ফ্যাক্টরির গার্মেন্টকর্মী দুই সন্তানের জননী বাসে করে ভালুকা ফিরছিলেন। পথে ভালুকা সীডস্টোর এলাকায় অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে তাকে একা পেয়ে বাসের চালক ও হেলপার ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করেন। পরে বাস থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি রোগীকে দেখেছেন তিনি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভালুকা থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাসচালক রাকিব, সহকারী আরিফ ও সুপারভাইজার আনন্দ দাস।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে ভালুকা থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর ভাই। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।