গত বুধবার বিকেলে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শহরকুঁড়ি গ্রামে স্থানীয় সড়কের দুই ধারে দেখা মেলে এই ফুল গাছের। সেখানে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে গোপনে!
এই গাছটির সাড়ে তিনফুট থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে সৌন্দর্য ছড়ায় ফুলটি। এছাড়াও সারাবছরই এ ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে ফুলটির দেখা বেশি মেলে বর্ষায়। বুনো গন্ধযুক্ত এই ফুলটি যেন বন-জঙ্গলের এক অবাক বিস্ময় হয়ে রয়েছে।
.png)
লান্টানা বা পুটুস ফুল পরিপূর্ণভাবে ফোটার পর রঙ বদলায়। এর পাঁপড়ি থাকে পাঁচটি। ফলে একই গাছে নানা রঙের ফুল ফোটে। ফুলগুলো লাল, কমলা, হলুদ ও হালকা বেগুনি রঙের হয়। এটি বনফুল হলেও অবাক করা রূপ তার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রঙ-রূপ বদলে ফেলে এই ফুল। এমনকি ঝোপ থেকে ঝোপেও দেখা যায় রঙের পার্থক্য।
ফুলের একই থোকায় থাকে নানা রঙ। ফুলগুলোতে অনেক রঙের প্রজাপতি বসে। এই ফুলটি প্রজাপতিদের খুব পছন্দের। এর ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পেকে গেলে গাঢ় বেগুনি হয়। পাখিরা এ গাছের পাকা ফল খেয়ে থাকে। তবে এই গাছের পাতা গবাদিপশুর জন্য বিষাক্ত খাবার।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, লান্টানা বা পুটুস হলো গুল্ম জাতীয় ফুল গাছ। এ ফুল দেশ ভেদে নানা নামে পরিচিত। ফুলটির আদি নিবাস আমেরিকায়। তবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ প্রায় সব দেশেই এ ফুল দেখতে পাওয়া যায়।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম আল-আমিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এই গাছটির অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। চর্মরোগ ও জ্বর নিরাময়ে বেশ উপকারী। এ গাছের পাতা হারবাল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরো বলেন, এর ফুল প্রথমদিকে হালকা হলুদ রঙের হয়। তখন ফুলে পরাগায়ন হয়। পরাগায়নের পরেই মধুভাণ্ড শেষ হয়ে গিয়ে ফুলের রঙ বদলানো শুরু হয়।