ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্ত্রীর ধর্ষণ মামলায় কারাগারে স্বামী

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০০, ২৩ জুলাই ২০২৩
স্ত্রীর ধর্ষণ মামলায় কারাগারে স্বামী
ফাইল ফটো

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় স্বামী মহিউদ্দিন রাজুকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। 

শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে মহিউদ্দিন রাজুকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে স্ত্রী মোমেনা বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন ও মোমেনার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। মোমেনা আমেরিকার প্রবাসী। তিনি আমেরিকায় থাকাকালীন মহিউদ্দিন তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতেন। গত ৭ জুলাই মোমেনা আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন। ৮ জুলাই ফেনীর ট্রাংক রোডে ডাক্তার দেখাতে গেলে মহিউদ্দিন পথরোধ করে কথা আছে বলে তাকে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন লোক আগে থেকে বসা ছিলেন। এর মধ্যে একজন নিজেকে অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে আগে থেকে তৈরি করা এফিডেভিটে স্বাক্ষর করতে বলেন। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে মহিউদ্দিন ছুরি বের করে হত্যার হুমকি দেন। পরে ভয়ে চারটি কাগজে স্বাক্ষর করেন মোমেনা। সেই কাগজপত্রে বিয়ের ডকুমেন্টস তৈরি করা হয়।

Advertisement

মোমেনা বলেন, গত ১৪ জুলাই আমি প্রয়োজনীয় কাজে সোনাগাজী গেলে রাস্তার ওপর মহিউদ্দিন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ায়। তখন আরো দুজনের সহযোগিতায় আমি ও আমার মেয়েকে টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যান। পরে সে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার একটি বাসায় আমাকে তিনদিন পর্যন্ত আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি জেনে আমার স্বামী দেশে ফিরলে তাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সোনাগাজী থানায় মামলা করেছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামী মহিউদ্দিন রাজু বলেন, মোমেনা আমেরিকা প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে একটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে আমার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। মোমেনা আক্তারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমাকে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি তার সঙ্গে বিয়েতে রাজি হই। এ সময়ে সে আমাকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার টাকা চাইলে আমি তাকে কয়েক দফায় ১৭ লাখ টাকা দেই। এছাড়া বাড়ি থেকে আমার প্রথম স্ত্রীর ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, গত বছর আগস্টে সে নোটারি পাবলিক ও চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার স্বামীকে তালাক দেয়। চলতি মাসের ৮ তারিখে আমরা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট করার পর কাবিনে স্বাক্ষর করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তার সাবেক স্বামী ও দুই ভাই তাকে জিম্মি করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করান।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত মহিউদ্দিনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!