ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে ভাড়া বাসায় থাকছেন ক্যাম্পের মাঝিরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ১১ আগস্ট ২০২৩
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে ভাড়া বাসায় থাকছেন ক্যাম্পের মাঝিরা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ফাইল ছবি)

রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, সেটা চায় না রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। তাই প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়ে যায় হত্যাকাণ্ড বা সন্ত্রাসী তৎপরতা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এমন অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝি বা নেতাদের টার্গেট করছে আক্রমণকারীরা। সেজন্য রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবৈধভাবে শিবিরের বাইরে নিরাপদ জায়গায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে থাকার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। 

স্থানীয়রা জানান, উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে বছর দেড়েক ধরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে রোহিঙ্গাদের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপ আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলো পরিচালনায় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রতিটি শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা নির্বাচন করা হয়, যাদের বলা হয় মাঝি। তাদের টার্গেট করেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হত্যা মিশনে নেমেছে। তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় অনেক সাধারণ রোহিঙ্গাও প্রাণ হারিয়েছেন।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুফতি মো. জামাল নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি আরসার সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত মুফতি জামাল বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ এর বি-১১ ব্লকের নজির আহমেদের ছেলে।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা জড়িত। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জামাল আগে আরসার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে আরএসওর সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিক আমিন (ছদ্ম নাম), যিনি একটি শিবিরের হেড মাঝি বা প্রধান নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে তার ওপরও আক্রমণ করেছিল আরসা। সে দফায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে শিবিরের বাইরে একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঠেছেন। রফিক আমিন দাবি করেন, শিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতেই মূলত আরসা একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ নানা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। ক্যাম্পে যতক্ষণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকেন, ততক্ষণ এরা লুকিয়ে থাকে। সরকারি লোকজন ক্যাম্প থেকে চলে যাওয়ার পর তারা রোহিঙ্গা নেতাদের খোঁজ করে, সামনে পেলে মারধর করে। এরই মধ্যে তারা আমাদের বেশ কয়েজন মাঝিকে হত্যাও করেছে। 

কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত এপিবিএন-১৪ এর অধিনায়ক সৈয়দ হারুনর রশিদ বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোন মাঝি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন- তা আমাদের জানা নেই। যদি কেউ থেকেও থাকেন তা আমাদের দৃষ্টিগোচরের বাইরে। ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে থাকার কোনো বিধান নেই। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বাইরে অবস্থান করছে এ ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সবসময় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে। সন্ত্রাসীদের অনেককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পজুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!