ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুর্গম পাহাড়ে তৈরি অস্ত্র যেত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২১ আগস্ট ২০২৩
দুর্গম পাহাড়ে তৈরি অস্ত্র যেত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে
টেকনাফের পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম

কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকা দিনদিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গারা আসার পর থেকেই মাদক চোরাচালান যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অস্ত্রের ব্যবহারও। সবশেষ গত শনিবার সেখানে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাব। ছয়জনকে আটকের পর র‌্যাব জানতে পারে- এই অস্ত্রের একটা অংশ যেত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সবকিছু মিলিয়ে রোহিঙ্গারা ঐ এলাকা অস্থির করে তুলছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবীর চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আমরাই এখন আতঙ্কে থাকি। চুরি-ডাকাতি, খুন, অপহরণ, মাদকসহ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নানা ধরনের অপরাধ দিনদিন বাড়ছে।

এদিকে টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গীখালি এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও ডাকাতদলের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে শনিবার ছয় ডাকাতকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। এ সময় ডাকাতদলের অস্ত্রের কারখানা থেকে দুটি একনলা বন্দুক, চারটি এলজি, একটি অর্ধনির্মিত এলজি, সাত রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, ১০ রাউন্ড রাইফেলের কার্তুজ, একটি ড্রিল মেশিন, একটি আগুন জ্বালানোর মেশিন, দুটি লেদ মেশিন, দুটি বাটাল, দুটি লোহার পাইপসহ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

র‌্যাব-১৫ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক বলেন, এই চক্রের প্রধান ফয়সাল উদ্দিন ওরফে ফয়সালকে আমরা ৫ সহযোগীসহ আটক করেছি। পাহাড়ে একাধিক ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আছে। ডাকাত চক্র প্রতিনিয়ত এলাকাবাসী এবং অন্যান্য এলাকা থেকে আগত পর্যটকদের নানাভাবে হয়রানিসহ খুন, অপহরণ ও ধর্ষণ জাতীয় অপরাধ করে আসছিল। সন্ত্রাসীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। আমরাও পাল্টা গুলি করি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই অস্ত্র কোথায় যায়? জানতে চাইলে সৈয়দ সাদিকুল হক বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছেও এই অস্ত্র যায়। ২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত এখানে মাদকের এত বেশি বিস্তার ছিল না। রোহিঙ্গারা আসার পর তা বেড়েছে। এই মাদকের কারণে অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সীমান্তের বেশ কাছে। ফলে অপরাধীরা কোনোভাবে সীমান্ত পার হলেই এদের ক্যাম্পে চলে আসে। কোনো সন্ত্রাসী যদি ঐ ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে তাহলে তাকে ধরা বেশ কঠিন। বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা অভিযান চালাই। গত এক বছরে এই এলাকা থেকে আমরা প্রায় দেড়শ’ অস্ত্র উদ্ধার করেছি।

গত জানুয়ারিতে টেকনাফে টানা ৯ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাতদলের ৬ সদস্যকে আটক করে কোস্টগার্ড। তখন কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বি এন আব্দুর রহমান বলেছিলেন, শাহপরী দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় একটি সক্রিয় অস্ত্রধারী ডাকাতদল ফিশিং বোটে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!