‘আব্বা শেষ ইচ্ছাটা রাখার চেষ্টা কইরেন, স্বর্ণার পাশে কবর দিয়েন’
২৯ জুলাই। পারিবারিক কলহের জেরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন লুৎফর রহমানের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার। এবার স্ত্রীর ‘আত্মহত্যার’ ৩৫ দিন পর চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন লুৎফর রহমান জনি। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত লুৎফর রহমান জনি ওই এলাকার মোহাম্মদ আউয়াল মিয়ার ছেলে।
চিরকুটে লুৎফর রহমান লিখেন, ‘আব্বা, আপনি আমারে অনেক ভালোবাসেন। আমি ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আপনারে অনেক কষ্ট দিয়েছি। পারলে আমারে মাফ করে দিয়েন। মাফ না করলে মরেও শান্তি পাব না। আমার শেষ ইচ্ছাটা রাখার চেষ্টা কইরেন, স্বর্ণার পাশের কবরটা খালি আছে, সেখানে আমারে কবর দিয়েন। ঝামেলা হইলে ফরিদ মাওলানা কাকা কবরস্থানের কমিটিতে আছেন, তার সঙ্গে কথা বলে স্বর্ণার কবরের পাশে আমারে কবর দিয়েন। আমার শোয়াইবরে (ছেলে) দেখে রাইখেন। আব্বা, আমি অনেক চেষ্টা করেছি স্বাভাবিকভাবে থাকার। কিন্তু স্বর্ণারে ছাড়া একটা দিন এক বছরের মতো লাগে। তার মৃত্যুর এই ৩৫ দিন আমার কাছে ৩৫ বছর মনে হয়েছে। আমারে মাফ করে দিয়েন আব্বা। মা, আপনিও আমারে মাফ করে দিয়েন। আপনার যত্ন নিতে পারি নাই। আমি তোমাগো অনেক ভালোবাসি।’
.png)
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৯ জুলাই লুৎফর রহমানের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন। এবার চিরকুট লিখে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন স্বামী লুৎফর। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্বর্ণার ভাই জনি হোসেন বলেন, আমরা গরিব হওয়ার কারণে আমার বোনের শ্বশুর আব্দুল আউয়াল বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতেন। মানসিক অত্যাচারের কারণে আত্মহত্যা করেন আমার বোন। তবে স্বামীর সঙ্গে আমার বোনের সুসম্পর্ক ছিল। স্ত্রীকে হারানোর যন্ত্রণায় হয়তো সেও আত্মহত্যা করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।