কলির মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার শারফিন বাজার গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত দুলাল মিয়া।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের দিকে কলির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শহরের চন্ডিবের দক্ষিণপাড়ার আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রী নাবিলা। অতিরিক্ত নির্যাতনে কলির শরীর ও মাথায় মারাত্মক রক্ত জখম হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির রায়হান নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
.png)
নির্যাতনের কথা গোপন রেখে রায়হান কর্তব্যরত চিকিৎসককে বলেন, সিঁড়ি থেকে পড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। শরীরের আঘাতের আলামত পেয়ে ভুক্তভোগী কলির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা।
এ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার আহত কলি বেগমের মাথায় সেলাই করে ও হাতে ব্যান্ডেজ করা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসার সময় অসহায় কলিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রায়হান নামে ব্যক্তিটি পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। রায়হান মিয়া জানান, অভিযুক্ত নাবিলা বেগম তাকে দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠান এবং বলেন, মেয়েটি সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে। এ সময় রায়হান মেয়েটিকে নাবিলার বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে মেয়েটি ভয়ে বাসায় যেতে রাজি হয়নি।
এ ঘটনা জানতে রায়হান মিয়ার কাছ থেকে নাবিলা বেগমের ফোন নম্বর চাইলে তিনি নম্বর দেননি। পরে অভিযুক্ত নাবিলা বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
নির্যাতিত কলি বেগম জানায়, প্রতিদিনই তাকে কোনো না কোনো কারণে নির্যাতন করতেন নাবিলা। আজ দুপুর ১২টার দিকে মাংস রান্নার জন্য ফ্রিজ থেকে মসলা নামাতে বলেন। সে মসলা নামায়। মসলা গলতে দেরি হওয়ায় তাকে চুলের মুঠি ধরে মারেন এবং রান্নাঘরের লোহার খুন্তি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন।
কলি আরো জানায়, সে আর ঐ বাসায় কাজ করবে না। নির্যাতনকারী নাবিলার শান্তি ও বিচার দাবি করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, হাসপাতালে গিয়ে ঐ মেয়ের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।