বরিশালে মাল্টা বাগান দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে মাল্টা চারা সংগ্রহ করে জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন বাগান। প্রথমবারে লাভবান না হতে পারলেও এবার ফলনে ভরে গেছে পুরো বাগান। গেল বছরের লোকসান পুষিয়ে এবারে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন তার।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আখানগর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। পেশায় একজন গাড়িচালক হলেও এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা। বাড়ির পাশে ১১ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে করেছেন মাল্টা চাষ।
.png)
শুরুতে অনিশ্চিত থাকলেও এখন ধরা দিয়েছে সফলতা। তার বাগানে বারি-১, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি ও ভিয়েতনামের ইয়োলো জাতের মাল্টা রয়েছে। এবারে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা তার।
জেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁওয়ে ২৩৫ একর জমিতে ৭৯০টি বাগানে মাল্টা চাষ হয়েছে। এরইমধ্যে সফল হয়েছেন অনেকে। জেলায় মাল্টা চাষি রয়েছেন ৭৬২ জন।
হুমায়ুনের বাগানে ফলন দেখে সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। তাকে দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকে। সফলতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অনেক মানুষের। বাগানে কাজ করে পারিশ্রমিকে পরিবারের ভরণ-পোষণ করেন শ্রমিকরা।
বাগানের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, টেলিভিশনে বাগান নিয়ে একটি অনুষ্ঠান এবং সরেজমিন মাল্টা বাগান দেখে বিমোহিত হয়েছিলাম। শুরুটা কঠিন হলেও এবারে বেশ ফলন এসেছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামীতে বাগানের পরিধি আরো বাড়াবো। সেইসঙ্গে নতুন করে কেউ আগ্রহী হলে আমার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করবো।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ জেলার মাটি লেবু জাতীয় বা মাল্টা চাষে বেশ উপযোগী। সে কারণে এর আবাদ বেড়েই চলেছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের সার্বিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন কেউ আগ্রহী হলে তাকেও সহযোগিতা করা হবে।
মাল্টা আবাদে লাভের মুখ দেখায় প্রতি বছর বাড়ছে মাল্টার চাষ। ফলটি চাষে কৃষি অফিস ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়লে আরো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবেন বলে প্রত্যাশা সফল চাষিদের।