ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৮৭ দিনে কোরআনের হাফেজা কিশোরী সুমাইয়া

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৬, ৯ নভেম্বর ২০২৩
৮৭ দিনে কোরআনের হাফেজা কিশোরী সুমাইয়া
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৮৭ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সুমাইয়া খাতুন। ১৩ বছর বয়সী সুমাইয়ার বাড়ি কুমারখালী উপজেলার চরঘোষপুর গ্রামে। সে পাবনার দরসে জামী ন্যাশনাল একাডেমি মাদরাসার ছাত্রী।

পাবনার সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন ও শামসুন্নাহার দম্পতির সন্তান সুমাইয়া খাতুন। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার বড় সে।

সুমাইয়া খাতুনের মা শামসুন্নাহার জানান, মেয়েকে চার বছর বয়স থেকে পড়াশোনা শুরু করে। সে খুব মেধাবী। চরঘোষপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনীতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় স্কুল থেকে ভর্তি হয় পাবনার রাধানগরে মাদানিয়া মাদরাসায়। এরপর সে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাইতুন নুর আদর্শ মহিলা মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে কিছুদিন পড়াশোনা করে পাবনার উম্মে হাবিবা মাদরাসায় ভর্তি হয়। সর্বশেষ কোরআন হাফেজা হতে দরসে জামী ন্যাশনাল একাডেমি মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে মাত্র ৮৭ দিনে কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে। পাশাপাশি সে পাবনার খোদাইপুর মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

Advertisement

সুমাইয়া খাতুন জানায়, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল হাফেজা হওয়ার। তাই বিভিন্ন মাদরাসায় ভর্তি হলেও সাহস পাচ্ছিলাম না। ভয় কাজ করতো পারবো কিনা, শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় অবশেষে হাফেজা হতে পেরে আমি খুব খুশি।

সুমাইয়ার বাবা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মেয়েটার ইচ্ছা আল্লাহ পূরণ করেছেন। এ জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। 

জামিয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মুহতামীম মুফতি নাজমুল হাসান বলেন, আল্লাহ প্রদত্ত বিরল প্রতিভা হলো সুমাইয়া। আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন। সবাই এ সুযোগ পায় না। তাকে দেখে অন্য মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করেন তিনি। কোরআনের সঙ্গে যিনি থাকবেন, তার সম্মান বাড়িয়ে দেন আল্লাহ।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ৮৭ দিনে সুমাইয়ার কোরআনের হাফেজ হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: কোরআন পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!