খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, চলমান সংকটের সমাধান না হলে পর্যটনসহ সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরমধ্যেই মৌসুমের দুইটি মাস শেষ হচ্ছে। গেল দুই মাসে কোনো ব্যবসা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমল, বার্মিজ মার্কেট, শুটকি মার্কেট, যানবাহন, শামুক ও ঝিনুক মার্কেট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই হরতাল-অবরোধের কারণে এই খাতের মরণদশা। মানুষ ঘুরতে যায় আনন্দ করতে। কেউই চাইবে না কোনো ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে। ফলে যেসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষ সবচেয়ে বেশি ঘুরতে যায়, সেসব পর্যটন কেন্দ্র এখন একেবারেই খালি। বিমানে কিছু পর্যটক আসা-যাওয়া করলেও তা উল্লেখ করার মতো নয়।
.png)
তিনি আরো বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। কারণ নভেম্বর প্রায় শেষ, ডিসেম্বরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে- এমন লক্ষণ আমরা দেখছি না।
ঢাকার মালিবাগের বাসিন্দা ব্যবসায়ী নসরুল হামিদ জানান, গত ৪ ও ৫ নভেম্বর সপরিবারে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তিনি কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলে তিনটি রুম বুকিং করেন। পরে ওই দুইদিন হরতাল-অবরোধের কারণে কক্সবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। এতে হোটেল কর্তৃপক্ষ একদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অপরদিকে ওই ব্যবসায়ী তার ভ্রমণ বাতিল করে চলে যান সপরিবারে নেপাল।
কলাতলী হোটেল মোটেল জোনের সভাপতি মুকিমখাঁন জানান, এভাবে অনেক পর্যটক শুষ্ক মৌসুমে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পট না এসে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।
এদিকে, দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ প্রায় সবকটিই এখন পর্যটকশূন্য।
বান্দরবানের একটি অভিজাত হোটেলের মালিক কিশলুর রহমান বলেন, নভেম্বরে মাত্র দুইজন পর্যটক রিসোর্টে তিন দিন ছিলেন। এ ছাড়া আর কোনো পর্যটক আসেননি। প্রায় ৩০ জন পর্যটক বিভিন্ন সময় রুম বুকিং দিয়েছিলেন। হরতাল-অবরোধের কারণে সব বুকিংই বাতিল হয়েছে।
কক্সবাজারের তিন তারকা হোটেলের ম্যানেজার শামীম হাসান বলেন, অবরোধ-হরতালের কারণে কক্সবাজার পর্যটকশূন্য। বিমানে কিছু পর্যটক আসছেন, তাও একেবারে নগণ্য।
তিনি আরো বলেন, হোটেলের রুম ভাড়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪০-৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরও পর্যটক পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি অনেকে আগে থেকে ডিসেম্বরের জন্য রুম বুকিং দিলেও এখন তা বাতিল করছেন। বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ রুম ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল গ্র্যান্ড সেন্ডির মালিক আবদুর রহমান বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা নেই।
বান্দরবানের পূরবী হোটেলের ম্যানেজার শিমুল দত্ত বলেন, পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, নীলগিরি, নীলদিগন্ত ও শৈলপ্রপাতসহ দর্শনীয় স্থানগুলো সবই ফাঁকা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ পর্যটন স্থান রয়েছে। এরমধ্যে ২৮১টি স্থানে পর্যটকরা নিয়মিত যান। প্রতিবছর এসব পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় দুই কোটি দেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে ও রাতের বিনোদনের জন্য মাত্র কয়েকদিন আগে কক্সবাজারে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে শিল্প ও বাণিজ্যমেলা। সেখানে নেই কোনো কোলাহল। আর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট এখন নিরব। বন্ধ হয়ে গেছে কক্সবাজার শহরের আড়াইশ রেস্তোরাঁ। হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে প্রতিদিন ছাঁটাই করা হচ্ছে কর্মচারী।
কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারের হোটেল মোটেল ও বিপণী বিতানসহ পর্যটন সেক্টরে গত দুই মাস ধরে দৈনিক ১৫-১৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।