পাক হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের সারা দেশের ন্যায় ভৈরবেও নারকীয় হত্যাকাণ্ড শুরু করে। তাদের দোসর আলবদর, রাজাকার ভৈরব বাজারের তিন ভাগের দুই ভাগ জ্বালিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের সিন্দুক ভেঙে টাকা পয়সা ও মালামাল লুট করে এবং ভৈরবের বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ধরে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহিদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতুর পূর্ব পাশে একটি ও পশ্চিম পার্শে দুটি স্পেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে মিত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করার প্রয়াস চালায়।
১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের প্রধান জেনারেল নিয়াজী তার দলবলসহ আত্মসর্মপণ করলেও ভৈরব পাক হানাদার বাহিনী সেই খবর পায়নি। ফলে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক হানাদারদের সঙ্গে ছোট খাটো সংঘর্ষ চলতে থাকে ভৈরবের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। ১৯ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের হাই কমান্ডের নির্দেশ পাওয়ার পর আত্মসর্মপণের পূর্ব মুহূর্তে তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের রক্ষিত টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে ডিনামাইট দিয়ে মাধ্যমে উড়িয়ে দেয়। এছাড়াও আবাসিক এলাকার ঘর-বাড়িতে লুটপাট চালায় তারা এমন কি বিভিন্ন গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি খুঁজে খুঁজে আগুন দিযে অনেক বাড়ি ঘর পুড়িযে দেই এবং ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের আপন দুই ভাই আইজুল হক ও ফাইজুর হকসহ মোট ৪ জনকে একদিনে গুলি করে মেরে ফেলেন পাক হানাদার বাহিনী। পরে ১৯ ডিসেম্বর তারা আত্মসর্মপণ করতে বাধ্য হয়।
.png)
এভাবে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং ভৈরবের মানুষ পাকিস্তানি পতাকাকে পদদলিত করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। স্বাধীনতার মুক্তির স্বাদ লাভ করে। ভৈরবের মানুষ প্রতি বছরই এ দিনটিকে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করেন।
বিজয় উপলক্ষে এই দিনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।