ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন

মেয়ে-নাতির মৃত্যু, থামছে না নাদিরার মায়ের কান্না

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
মেয়ে-নাতির মৃত্যু, থামছে না নাদিরার মায়ের কান্না
থামছে না নাদিরার মায়ের কান্না- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাতে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন নাদিরা ও তার সন্তানেরা। সেই ট্রেনে ভোরের আলো দেখার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন নাদিরা ও তার ছোট ছেলে আরাফাত।

পরীক্ষা শেষে মাকে আর বড় ভাই ফাহিমকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল তিন বছরের শিশু ইয়াসিন আরাফাত। দীর্ঘদিন গ্রামে কাটানোর পর বাবার কাছে ফিরতে সোমবার রাতে নেত্রকোণার স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেন। সকালে বাবার কাছে ফেরার কথা থাকলেও ফিরতে হলো না ফেরার দেশে।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের আগুনে ভাগ্যক্রমে বড় ভাই ফাহিম বাঁচলেও মাকে জড়িয়ে ধরেই আগুনে পুড়ে প্রাণ যায় শিশু আরাফাতের, সঙ্গে মারা যান নাদিরা আক্তার পপিও।

Advertisement

এমন মৃত্যুতে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের বরুনা গ্রামে। পাড়া প্রতিবেশীও শোকে বিহ্বল। সকাল থেকে প্রিয়জনের মৃত্যু খবরে যেন কান্নার রোল থামছেই না। মৃতদের ছবি দেখে দেখে আহাজারিতে ভারি করে তুলেছে চারপাশ। মা জোসনা আক্তার বার বার নাতি ও কন্যার শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন।

নিহত নাদিয়া ও তার ছেলে আরাফাতসোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে নেত্রকোণা থেকে ছেড়ে যাওয়া মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেন পপির ভাই ও দুই ছেলেসহ একই পরিবারের নয়জন। ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর স্টেশনে তাদের মধ্য থেকে পাঁচজন নেমে যায়। বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর হঠাৎ ট্রেনে আগুন দেখা যায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা যে যার মতো বাইরে আসেন। পাপিয়ার ভাই তার বড় ভাগ্নিকে নিয়ে ট্রেন থেকে বের হলেও ট্রেনের ভেতরেই আটকা পড়েন পপি ও তার ছোট সন্তান আরাফাত। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যখন আগুন নিয়ন্ত্রণ এনে ট্রেনের ভেতরে ঢুকেন তখন তাদের চোখে পড়ে মা-ছেলের জ্বলন্ত মরদেহ।

ছোট বোন কামরুন্নাহার রুনা বলেন, ‘আমাদের পাঁচ বোনের মধ্যে নাদিরা দ্বিতীয়। পাশের গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। মিজান বিয়ের আগে থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে হার্ডওয়্যার ব্যবসা করতেন। বিয়ে পরে আমার বোনকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন তারা। তাদের দুই ছেলে। বড় ছেলে ৯ বছর বয়সী ফাহিম ও ইয়াসিনের বয়স ৩।’

মা জোসনা আক্তার বলেন, ‘বেড়ানো শেষে সোমবার রাত ১২টায় ট্রেনে উঠেন। সঙ্গে যায় আমার ছেলে হাবিবুর রহমান। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ট্রেনে আগুন দিয়ে আমার মেয়ে ও ছোট নাতিকে পুড়িয়ে মারছে। আমার ছেলে আমার বড় নাতিকে নিয়ে ট্রেন থেকে ঝাপ দিয়ে বেঁচে গেছে। আমি আমার মেয়ে ও নাতির হত্যার সঠিক বিচার চাই।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!