শীতের মৌসুম এলে তিন মাস ধরে খেজুরের রস বিক্রি ও গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন তিনি। মাসুদ উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা।
গাছি মাসুদ জানান, ১০ বছর ধরে শীতের মৌসুমে খেজুরের গাছ কেটে রস ও গুড় সংগ্রহ করছি। বছরের প্রতি শীতের মৌসুমে তিন মাস পর্যন্ত এসব রস ও গুড় সংগ্রহ করি। রস এবং গুড় আলাদা আলাদা বিক্রি করি। এর মধ্যে প্রতি হাড়ি রস দেড় থেকে দুইশত টাকায় বিক্রি করতে পারি। আর প্রতি কেজি গুড় চারশত থেকে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারি। লোকজন বাড়ি থেকে এসেই এসব রস ও গুড় কিনে নেন।
.png)
তিনি বলেন, আগের তুলনায় খেজুর গাছ এখন অনেক কমে গেছে। যার জন্য তেমন গাছ নেই। এ বছর আমি ৩৫টি গাছ কেটেছি। যেখান থেকে প্রতিদিন ১৫ হাড়ির মতো রস হয়। এসব রস থেকে ৬ থেকে ৭ কেজি গুড় সংগ্রহ করা যায়। মানুষের কাছে রস এবং গুড়ের ব্যাপক চাহিদা। মাসে গড়ে ৬০ হাজার টাকার মতো রস এবং গুড় বিক্রি করতে পারি। যেখান থেকে খরচ বাদে অন্তত অর্ধলাখ টাকার মতো লাভ হয়। তিন মাস খেজুর গাছ কেটে রস ও গুড় সংগ্রহ করে অন্তত দেড় লাখ টাকা উপার্জন করতে পারি। যা শীতের মৌসুমে সম্পূর্ণ বাড়তি আয়।
তিনি আরো বলেন, এই খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষিচাষাবাদ করি। শীতের মৌসুমের খেজুর রস ও গুড়ের এই আয় ও কৃষি চাষাবাদের আয় থেকে আল্লাহর রহমতে ভালোভাবেই সংসার চলছে। সংসারে স্ত্রীসহ তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। যাদের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, আর ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি। অন্য মেয়ে পড়ালেখা করছে। বছর শেষে সকল আয় দিয়ে সবাইকে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালোভাবেই চলতে পারি।
গাছি মাসুদের কাছ থেকে চার হাড়ি রস সংগ্রহ করেন মো. আমজাদ। তিনি জানান, শীতের মৌসুমে খেজুরের রসের অন্য রকম স্বাদ রয়েছে। আমি এসব রস দিয়ে ফিরনি করবো। খেজুরের রসের ফিরনি অনেক মজার হয়। তার থেকে গুড় কিনেন মো. হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
তিনি বলেন, শীতের মৌসুমে খেজুরের গুড় অনেক সুস্বাদু। ভাতসহ পিঠার সঙ্গেও এ গুড় খাওয়া যায়। এক কেজি গুড় চারশত টাকা, এ দাম অনেক বেশি। আরো বছর খানেক আগেও এসব গুড়ের দাম দেড় থেকে দুইশত টাকা ছিল। এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে, খেজুর গাছ কমে যাওয়া।