৪৫ বছর ধরে পেঁয়াজু-শিঙাড়া ভেজে চলে বুলুর সংসার
শীতের সন্ধ্যায় জবুথবু সবাই। এমনিতেই উত্তরবঙ্গে শীত বেশি। তাই বাজারে মানুষজনের আনাগোনা কম। তবে বুলু প্রধানের দোকানে থাকে বেশ ভিড়। কারণ, গরম গরম পেঁয়াজু, সমুসা ও শিঙাড়া ভাজেন তিনি। আর সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মুখরোচক খাবার এগুলোই।
বুলু প্রধানের দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি একহাতে সমুসা ভেজে চলছেন আর অন্যহাতে ক্রেতা সামলাচ্ছেন। কত বছর ধরে এগুলো বানাচ্ছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিশোর বয়স থেকেই বানাই। এখন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। সে হিসেবে ৪৫ বছরের মতো তো হবেই।
তিনি আরো বলেন, প্রথমে মিষ্টি বানাতাম। মিষ্টি দিয়েই শুরু আমার দোকানের। দিনে দশ-বারো কেজি মিষ্টি বিক্রি হয়। পরে এর সঙ্গে বানানো শুরু করি পেঁয়াজু, সমুসা ও শিঙাড়া।
.png)
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মধুপুরের এ বাজারটি প্রায় শতবর্ষী। এ বাজারেই ভ্যানস্ট্যান্ডের পাশে ছোট একটা চালা ঘর দিয়েছেন বুলু প্রধান। চারপাশে চারটি কংক্রিটের খুঁটি ও উপরে মোটা রেক্সিনের সঙ্গে কাঠ, বেত দিয়ে চাল দেওয়া। চারদিকে কোনো বেড়া (ঘের) নেই। এমন খোলামেলা পরিবেশেই তার দোকান। দোকানের সামনেই রয়েছে একটি গ্যাস স্টোভ। আর তাতেই বুলু প্রধান ভাজেন পেঁয়াজু, সমুসা, শিঙাড়া, ঝুরি নিমকি, নিমকি, কটকটি, খুরমা ও জিলাপি।

দিনে কী পরিমাণ পেঁয়াজু, সমুসা, শিঙাড়া তৈরি করেন জানতে চাইলে- বুলু প্রধান বলেন, আমি অল্প অল্প করে সব আইটেমই প্রতিদিন তৈরি করি। দুইশো পিচ সমুসা, শিঙাড়া বানাই। তিন কেজির মতো ঝুরি পেঁয়াজু, দুই কেজি ঝুরি নিমকি, চার কেজি জিলাপি, চার কেজি করে কটকটি ও খুরমা বানাই। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিনই তৈরি করি। এই বাজার বেশ বড়, তাই এগুলো থাকে না। সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। সবমিলিয়ে দিনে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকার বিক্রি হয়। সেখান থেকে যা লাভ হয় তা দিয়েই সংসার চলে।
ইসমাইল হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, আমি প্রায় দিনই এখানে ভাজাপোড়া খেতে আসি। বিশেষ করে চাচার দোকানের পেঁয়াজু আর শিঙাড়ার স্বাদ অনেক। এছাড়া সমুসা খেতেও ভালোই লাগে।
সোনাতলা উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে বুলু প্রধানের বাড়ি। তিনি মৃত কসিম প্রধানের ছেলে। চার ছেলেমেয়ে তার। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আর ছেলেরা তার সঙ্গেই দোকানে কাজ করেন।
বুলু জানান, তিনি সর্বপ্রথম দোকান শুরু করেছিলেন সোনাতলা বাজারে। তখন তিনি মিষ্টির সঙ্গে পরোটা বিক্রি করতেন। এখন এসেছেন আড়িয়াঘাট ব্রিজের নিচে মধুপুর বাজারে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সেখানে একটি বড় হোটেল দেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।