ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কুকুড়-বিড়ালের আক্রমণ বেড়েছে নেত্রকোণায়, টিকা নিতে হাসপাতালে ভিড়

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৫, ২৬ জানুয়ারি ২০২৪
কুকুড়-বিড়ালের আক্রমণ বেড়েছে নেত্রকোণায়, টিকা নিতে হাসপাতালে ভিড়
ফাইল ছবি

নেত্রকোণায় কুকুড় ও বিড়ালের আক্রমণে সর্বসাধারণের মাঝে বিরাজ করছে জলাতঙ্ক আতঙ্ক। ফলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিষেধক টিকা নিতে জেলা সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন।

আক্রান্ত্রদের মাঝে শিশুর সংখ্যাই বেশি। বিনামূল্যে হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দিলেও এই সময়ে কেন এর প্রবণতা সেটি বলতে পারছে না কেউ। 

গত এক সপ্তাহ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জলাতঙ্ক প্রতিষেধক স্থানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন নারী পুরুষ শিশু টিকা নিতে আসছেন। তাদের কেউ কেউ কুকুড়ের কামড় খেয়ে আবার কেউবা বিড়ালের। অনেকে নিজেদের বাড়িতে থাকা বিড়ালের দ্বারা আক্রান্ত। যত্ন করে খাবার দিতে গেলেও একপর্যায়ে সেই বিড়ালই আঁচড়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ টিকা নিতে আসা অনেকের।

সাতপাই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, একটি শিশু বিড়াল বাসায় আশ্রয় নিলে সেটিকে নিয়মিত খাবার দিতেন। সেই বিড়াল প্রথমে তার স্বামীকে আঁচড় দিয়ে রক্তাক্ত করে পড়ে আবার তাকে আঁচড় দেন। এ জন্য তারা দুইজনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেন।

এদিকে, কলমাকান্দার সিধলী থেকে আসা রহিমা আক্তার তার ৫ বছরের শিশুকে টিকা দিতে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, বাচ্চাটি উঠোনে খেলছিল। কিন্তু হঠাৎ একটি কুকুড় এসে শিশুটির হাতে কামড় দিয়ে দেয়। 

টিকা প্রদানকারী সিনিয়র স্টাফ নার্স হাজেরা জানান, বুধবার (২৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত টিকা নেয়া ২৪১ জনের মধ্যে ১২৯ জনই শিশু।

সহকর্মী এলিজা আক্তার জানান, জেলার সদর, আটপাড়া, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কেন্দুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী পুরুষ শিশু এসব প্রতিষেধক নিতে আসছেন। 

হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগের ইনচার্জ আফসানা আক্তার জানান, গত অক্টোবর মাসে ৩৮৫ জন, নভেম্বর মাসে ৩২০ জন ও ডিসেম্বর মাসে ৩৩৩ জন জলাতঙ্ক প্রতিষেধক নিয়েছেন। চলতি জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ২৬২ জন টিকা নিয়েছেন।

জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডাক্তার মো. হাবিবুর রহমান লাভলু জানান, প্রতিদিন আক্রান্তরা আসছে। এটার প্রবণতা বাড়লেও কারণ বলতে পারছেন না। আগে দেখতাম পৌরসভার কাজ কুকুড় বিড়ালের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ। এখন দেখি না। তবে মানুষ সচেতন তাই টিকা নিতে আসছেন। বাড়িতে পালিত হলেও এরা বাইরের গুলোর সঙ্গে মিশে সংক্রমিত হয়ে জলাতঙ্ক ছড়ায়। 

এ ব্যাপারে পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস এম মহসীন আলম জানান, গত তিন বছর ধরে কুকুর মারতে সরকারি নিষেধ রয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!