রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন। এদিকে নিহতের বড় ভাই সোহেল রানা ও তার বন্ধু পরেশ চন্দ্র শীলকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কালিহাতী উপজেলার পারখী গ্রামের মো. হানিফার ছেলে সোহেল রানা এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার উত্তর দগরবাড়ি গ্রামের মৃত রমনীকান্ত শীলের ছেলে পরেশ চন্দ্র শীল। নিহত মুকুল হোসেন গ্রেফতারকৃত সোহেলের ছোট ভাই।
.png)
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি পারখী গ্রামের চকপাড়ার ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় অর্ধগলিত মুকুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি কালিহাতী থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন মুকুলের স্ত্রী।
পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মুকুলের বড় ভাই সোহেল ও তার বন্ধু পরেশকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানিয়েছেন, বিদেশ যাওয়ার পর তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ায় মুকুল। সোহেল বিদেশ থেকে ফেরার পরও এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। একাধিকবার নিষেধ করলেও না শোনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে সোহেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৭ জানুয়ারি রাতে বন্ধু পরেশকে সঙ্গে নিয়ে মুকুলকে ডেকে গলায় মাফলার বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ধানক্ষেতে মাটিচাপা দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুকুল হত্যায় তার বড় ভাই সোহেল ও পরেশের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। শনিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়া থেকে কালিহাতী এসেছিল। সেখান থেকে কোদাল সংগ্রহ করে। ওইদিন রাতে জরুরি কথা আছে বলে মুকুলকে পারখী গ্রামের মনির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থাকতে বলে। রাত ১১টার দিকে মুকুলকে তারা স্কুলের আধা কিলোমিটার উত্তরে বগা বিলের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে গলায় মাফলার বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর পাশের জমিতে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।