ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরে দাম বাড়িয়েও ধান পায়নি খাদ্য বিভাগ

তবিবর রহমান, যশোর
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ১ মার্চ ২০২৪
যশোরে দাম বাড়িয়েও ধান পায়নি খাদ্য বিভাগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়েও ধান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে যশোর জেলা খাদ্য বিভাগ। মাত্র ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। বাজারে ধানের দাম বেশি থাকা ও গুদামে নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয় বলে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী হননি কৃষকরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যশোর জেলায় কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৪১৮ দশমিক ৬৪০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া জেলায় ১৪ হাজার ৮৭১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল ১৪ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৪০৪ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন। যার হার ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

Advertisement

গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে। সেদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য ১০২ জন চালকল মালিক এবং আতপ চাল সরবরাহের জন্য একজন চালকল মালিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। সেদ্ধ চাল ৪৪ টাকা, আতপ চাল ৪৩ টাকা এবং ধান ৩০ টাকা কেজি দরে কেনা হয়েছে।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারেন। ধান কেনার পর গুদাম থেকে কৃষককে ওজন মান মজুত সনদ দেওয়া হয়। কৃষক ঐ সনদ ব্যাংকে তার নিজস্ব ১০ টাকার হিসাবে জমা করার পর চেক দিয়ে ধান বিক্রির টাকা তোলেন। কিন্তু বাজার থেকে খাদ্য গুদামগুলো দূরে হওয়ায় পরিবহন খরচ বাঁচাতে কৃষকরা সরকারের গুদামে ধান দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

সূত্রটি আরো জানায়, জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে সদর, শার্শা, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর, বাঘারপাড়া এবং কেশবপুর উপজেলায় কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে এবং অভয়নগর উপজেলায় ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হয়েছে। বর্তমানে জেলার হাটবাজারে মোটা ধান ১ হাজার ২৪০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ২৭০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি হচ্ছে। গুদামে ধানের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ২০০ টাকা মণ।

জানা গেছে, গুদামে ধান দিতে গেলে কৃষকদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। কৃষক গুদামে ধান নিয়ে গেলে ঐ কৃষকের নাম উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কৃষকের তালিকায় আছে কি-না, তা দেখা হয়। তালিকায় নাম না থাকলে কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন না। ২০১০ সালে কৃষি বিভাগ কৃষকদের তালিকা তৈরি করে। এরপর তালিকাভুক্ত কৃষকদের কৃষিকার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তালিকাটি পরে আর হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে নতুন করে ধান চাষ করা কৃষক তালিকাভুক্ত হননি।

গুদামে ধান সরবরাহ না করার কারণ জানতে চাইলে ঝিকরগাছার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, গুদামে ধান বিক্রি করা বেশ ঝামেলার। তাছাড়া মোটা এবং চিকন ধানের বাজারদর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। গুদামে ধান পৌঁছে দিতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে, শ্রমও ব্যয় হয় বেশি। এ জন্য কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করতে চান না।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার বগুড়াতলা গ্রামের কৃষক শেখ নূর আলম বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিতে খুব ঝামেলা হয়। বাড়ি এবং স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রিতে কোনো ঝামেলা নেই। দামও ভালো। এ জন্য গুদামে ধান বিক্রি করিনি।

দাম বাড়িয়েও ধান সংগ্রহ আশানুরূপ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, আমন সংগ্রহ অভিযানে সরকারিভাবে ধানের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তার চেয়ে কিছুটা বেশি দামে ধান বেচাকেনা হচ্ছে। সংগ্রহ অভিযানের শুরুতে বাজারে ধানের দাম কম ছিল। তখন কিছু ধান সংগ্রহ হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, খাদ্যগুদামগুলো উপজেলা সদরে হওয়ায় ধান পরিবহনে কৃষকের ব্যয় বাড়ে। শ্রম ও সময়ও বেশি লাগে। এ জন্য কৃষক বাড়ি থেকে এবং পাশের বাজারে প্রায় একই দামে ধান বিক্রি করছেন। তাতে পরিবহন ব্যয়, শ্রম ও সময় কম লাগছে। এ কারণে কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে আগ্রহী হননি। তবে আমাদের প্রথমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ২০ মেট্রিক টন। সেখানে আমরা লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে চাল সংগ্রহ করেছি ১৩ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন। এতে করে ধান কম সংগ্রহ হলেও কোনো সমস্যা হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!