ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জলাশয়ে মিলল রাক্ষুসে ‘সাকার মাউথ ক্যাট ফিস’

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:২৫, ৭ মার্চ ২০২৪
জলাশয়ে মিলল রাক্ষুসে ‘সাকার মাউথ ক্যাট ফিস’
রাক্ষুসে ‘সাকার মাউথ ক্যাট ফিস’

বরগুনার পাথরঘাটায় এক জলাশয়ে রাক্ষুসে ‘সাকার মাছ’ পাওয়া গেছে‌। বুধবার বিকেলে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের মধ্য কালমেঘা গ্রামের একটি জলাশয়ে মাছটি পাওয়া যায়।

জানা যায়, কালমেঘা ইউনিয়নের সোনালী বাজার সংলগ্ন একটি জলাশয়ে মাছ ধরতে যায় স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল খতিব। এ সময় শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়ে একটি মাছ দেখতে পেয়ে ধরতে যান। এ সময় অপরিচিত এ মাছটি দেখে তিনি ভয় পেয়ে চিৎকার দিলে লোকজন দৌড়ে আসেন। পরে মাছটি পার্শ্ববর্তী সোনালী বাজারে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, ওই মাছটি ভয়ঙ্কর। পরে ওই মাছটি দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় করেন। 

মৎস্য বিভাগ বলছে, মাছটি ‘সাকার মাউথ ক্যাট ফিস’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হাইপোসটোমাস প্লিকোসপোমাস।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, সাকার ফিস দুই ধরনের। একটির রঙ সাদা ও ছোপ ছোপ দাগ এবং অপরটি কালো ও তার উপর সাদা ডোরাকাটা দাগ। বর্তমানে বাংলাদেশের নদ-নদীতে দ্বিতীয়টি ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এটি সাধারণ একুরিয়ামের জন্য আদর্শ মাছ। একুরিয়ামের ময়লা খেয়ে বেঁচে থাকে এবং স্বাদু পানির দানব হচ্ছে এই মাছ। ময়লাসহ অন্যান্য মাছের খাদ্য খেয়ে থাকে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে থাকে। তাই যে জায়গায় এই মাছ বেশি পরিমাণে থাকে সে জায়গায় অন্যান্য মাছ কম থাকে। এ মাছ বিষাক্ত এবং খেতে বিস্বাদ। এটি এ দেশীয় মাছ নয়, ফলে অনেকেই এই মাছের সঙ্গে পরিচিত নন।

এদিকে রাক্ষুসে সাকার মাছটি নিষিদ্ধ করে সরকার। ঢাকার বুড়িগঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়া রাক্ষুসে সাকার মাছ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ মাছটি রাক্ষুসে হওয়ায় সরকার গেজেটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী এ মাছ পাওয়া মাত্রই মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করার বিধান রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: পাথরঘাটা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!