ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শেরপুরে চাষ হচ্ছে সৌদির সুস্বাদু ত্বীন ফল

সুজন সেন, শেরপুর
প্রকাশিত: ১৪:৪৫, ৮ মার্চ ২০২৪
শেরপুরে চাষ হচ্ছে সৌদির সুস্বাদু ত্বীন ফল
সৌদি আরবের সুস্বাদু ত্বীন ফল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে সৌদি আরবের সুস্বাদু ত্বীন ফল। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ত্বীন ফল মূলত মরুভূমির ফল। এটি দেখতে কিছুটা ডুমুর ফলের মতো। দেশে ত্বীন ফল ড্রাই ফ্রুটস হিসেবে আমদানি করা হয়। 

জানা গেছে, শেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া মহল্লার আরিফুল আলম রাসেল প্রায় সাড়ে চার বিঘা পৈত্রিক জমির মধ্যে ১৫ শতাংশ জমিতে কয়েক বছর আগে বারোমাসি মিশ্র ফল বাগান করেন। ওই বাগানটি জেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী মাঠ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

চাষি আরিফুল ইসলাম রাসেল বলেন, জর্ডান সফরকালে লক্ষ্য করি আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে শুকনো ত্বীন ফল আমদানী করছেন। যা দেশের বাজারে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে পাকা ফলেরও চাহিদা রয়েছে দেশে। 

Advertisement

এক সময় দেশে ফিরে চিন্তা করি ত্বীন ফল চাষ করবো। সে অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় ২০টি চারা বগুড়া থেকে সংগ্রহ করে নিজের মিশ্র ফল বাগানে রোপণ করি। এক বছরের মাথায় ব্যাপক ফলন হয় প্রতিটি গাছে। তবে বর্তমানে ফল প্রায় শেষের দিকে। 

এ বছর ২০টি গাছ থেকে প্রায় ৭-৮ কেজি ফল পাওয়া গেছে। ওই ফলগুলো আত্মীয় স্বজনদের মধ্যেই বিতরণ করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীতে আরো চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে ত্বীন ফল চাষ করবো। 

আরিফুল ইসলাম রাসেল আরো বলেন, ত্বীন ফল চাষের খবর পেয়ে আশাপাশের অনেক মানুষ গাছ ও ফল দেখতে বাগানে ভিড় করেন। এ সময় বাগানে আগত অনেক চাষি এ ফল বাগানের সৌন্দর্য্য উপভোগ এবং ফল দেখে নিজের এলাকায় তা চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও অন্য একাধিক সূত্র জানায়, ত্বীন ফল দেশ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ত্বীন ফলের গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফল দেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই ফল গাছ থেকে প্রথম বছরে এক কেজি, দ্বিতীয় বছরে সাত কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এভাবে ক্রমান্বয়ে ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। ত্বীন ফলের গাছের আয়ু সাধারণত প্রায় একশ বছর হয়। তবে আবহাওয়া ও জাত ভেদে এ পরিসংখ্যানের তারতম্য হতে পারে। 

বাংলাদেশে ফলটি ত্বীন নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশ যথাক্রমে মিশর, তুরস্ক, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানে এটি আঞ্জির নামে পরিচিত।

মাঠে ও টবে রোপণ করে ত্বীন ফল উৎপাদন সম্ভব। এটির কাটিং চারা রোপণের ৪-৫ মাস পর থেকেই ফল দিতে শুরু করে। প্রতিটি পাতার গোড়ায় গোড়ায় ত্বীন ফল জন্মে থাকে। আর প্রতিটি গাছ ৬-৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এবং একটি গাছে ৭০-৮০টি পর্যন্ত ফল ধরে। 

পুষ্টিবিদ রেহেনা সুলতানা বলেন, ত্বীন ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ,বি,সি,কে, পটাসিয়াম, মেগনিশিয়াম, জিংক, আয়রন, কপার ও কার্বোহাইড্রেড থাকায় বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের পৌর এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, আরব দেশের এ ত্বীন ফল নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। গাছ ও ফল দেখে ধারণা করছি ভিটামিন ও মিনারেলস সমৃদ্ধ এ ত্বীন ফল চাষ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: শেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!