ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

টেকনাফের অপহৃত শিশু উদ্ধার, গৃহকর্মীসহ গ্রেফতার ১৭ রোহিঙ্গা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩৫, ১ এপ্রিল ২০২৪
টেকনাফের অপহৃত শিশু উদ্ধার, গৃহকর্মীসহ গ্রেফতার ১৭ রোহিঙ্গা
গৃহকর্মীসহ গ্রেফতার ১৭ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অপহৃত সৌদিপ্রবাসীর ছয় বছর বয়সী শিশুসন্তানকে ২২ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে অপহরণের এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে টেকনাফ থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ রাসেল ও টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিশুটির মা নুরজাহান বেগম।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, অপহরণ চক্রের প্রধান আনোয়ার সাদেকের পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা উম্মে সালমা সৌদিপ্রবাসী মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন। তিনি শিশু ছোয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৯ মার্চ অপহরণ করা হয় শিশু ছোয়াদকে। ওইদিন দুপুরে ক্লাস শেষে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছোয়াদকে দুর্ঘটনায় মায়ের মাথা ফেটে গেছে এবং হাসপাতালে মাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করেন উম্মে সালমা। একই দিন সন্ধ্যায় শিশুটির মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে টেকনাফ থানায় এজাহার করেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে। ১০ মার্চ সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাসহ চালক নাসির উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার দেওয়া তথ্যে জড়িত আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি জানান, এরই মধ্যে শিশুর মা নুরজাহান বেগমকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এমনকি মুক্তিপণ না দিলে শিশুকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে মাকে ফোন দিয়ে শিশুকে বিভিন্ন সময় নির্মমভাবে মারধর করে এবং কান্নার শব্দ শোনায়।

ওসি জানান, পুলিশের অভিযান টের পেয়ে অপহরণকারীরা শিশুকে নিয়ে  কুমিল্লার লালমাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। এরমধ্যে মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে ৩০ মার্চ দুপুরে কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা উদ্ধার ছাড়াও অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও চারটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সবাই একে অপরের আত্মীয় এবং রোহিঙ্গা। সাদেক এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী।

গ্রেফতারকৃত রোহিঙ্গারা হলেন- টেকনাফের মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাগু ডাকাতের ছেলে আনোয়ার সাদেক, তার বাবা মৃত আবদুর শুক্কুরের ছেলে নাগু ডাকাত, মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম, মোহাম্মদ খানের স্ত্রী উম্মে সালমা, নাগু ডাকাতের ভাই মোহাম্মদ হাশেম, সৈয়দুল হকের স্ত্রী খাতিজাতুল খোবরা, নাগু ডাকাতের স্ত্রী আয়েশা বেগম, সাদেকের স্ত্রী হোসনে আরা, নাগু ডাকাতের অপর ছেলে রনি, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজির পাড়ায় বসবাসকারি পুরাতন রোহিঙ্গা জাফর আলমের ছেলে নাসির আলম, মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মাইস্যাঘোনা এলাকার মনছুর আলমের ছেলে সালামত উল্লাহ প্রকাশ সোনাইয়া, একই ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার মৃত কালামিয়ার ছেলে জহির আহমেদ, শামসুল আলমের ছেলে হাসমুল করিম তোহা, সামিরাঘোনা এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, মৃত রহমত উল্লাহ ছেলে ফরিদুল আলম খান, সালামত উল্লাহর ছেলে মো. আমির হোসেন এবং শামসুল আলমের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম তোহা।

প্রসঙ্গত, গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৭ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৫৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা, বাকিরা রোহিঙ্গা নাগরিক। অপহরণের পরিবারের তথ্য বলছে অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫১ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!