শুধু ঈদ সার্ভিস নয় সবসময়ই ঐ রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি- কম খরছে ঢাকায় মালামাল আনা-নেয়া করা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষদের।
জানা গেছে, যাত্রী সংকটে গত ৯ মাস ধরে আমতলী-ঢাকা নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও ঢাকায় কম খরছে মালামাল আনা-নেয়া করা ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়াও কর্মহীন হয়ে পড়ে ঐ লঞ্চঘাটে কর্মরত প্রায় অর্ধশতাধিক ঘাট শ্রমিক (কুলি)।
.png)
২০২২ সালের ২৫ জুন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সড়কপথে চলাচলের জন্য পদ্মাসেতুটি খুলে দেওয়ার পর যাত্রী সংকটে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা লঞ্চগুলো। এতে ঢাকা-আমতলী নৌরুটে লঞ্চ চলাচল একেবারে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। গত বছরের ২০ জুলাই থেকে ঐ রুটের লঞ্চ সার্ভিস একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ঐ রুটের লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে স্বল্প খরচে দক্ষিণাঞ্চলে মালামাল আনা-নেয়া করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তাদের নৌ ও সড়কপথে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মালামাল আনা-নেয়া করতে হচ্ছে।
স্থানীয় আবদুর রহমান বলেন, শুধু ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নয়, সারা বছরই ঐ নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি জানাই।
আকন বস্ত্রালয়ের মালিক কামাল আকন বলেন, লঞ্চে অল্প খরচে ঢাকা থেকে মালামাল আনা যেত। কিন্তু সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশি খরচে সড়ক ও নৌপথে মালামাল আনতে হচ্ছে।
লঞ্চযাত্রী পান্না, হাসান ও রিসাদরা বলেন, দীর্ঘদিন পর লঞ্চে ঢাকা থেকে আমতলীতে বাড়িতে আসছি। অনেক ভালো লেগেছে। আমরা চাই লঞ্চ সার্ভিস আবার বন্ধ যেন না হয়।
আমতলী লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার শহীদুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমতলী লঞ্চঘাটের অর্ধশতাধিক ঘাট শ্রমিক (কুলি) বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন।
ইয়াদ-৭ লঞ্চ মালিক মামুন-অর রশিদ বলেন, যাত্রী সংকটের কারণে লোকসানে পড়ে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রেখেছিলাম। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রী পরিবহনের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আমার মালিকাধীন লঞ্চটি আমতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ঐ সার্ভিসে সুন্দরবন-৭ ও তরঙ্গ-৭ লঞ্চ যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।
বরগুনা বিবি আই ডব্লিউ টি এর সহকারী নৌ-বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-আমতলী নৌ-রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছে। আশা করছি, ঈদ পরবর্তী সময়েও ঐ সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।