জানা গেছে, গত ৫-৭ বছর ধরে পাবনা জেলাজুড়ে প্রায় গ্রামেই গড়ে উঠেছে একাধিক ‘গোশত’ সমিতি। যার মাধ্যমে মাংস কেনার টার্গেট নিয়ে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বছরজুড়ে টাকা জমান। বছর শেষে তারা নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে গরু বা মহিষ কিনে মাংস বণ্টন করে নিচ্ছেন। এতে বাজারে কসাইদের হাঁকানো দরের চেয়ে কেজিতে অন্তত ১০০-২০০ টাকা কম দরে মাংস পাচ্ছেন তারা।
গোশত সমিতির সদস্যরা জানান, ঈদকে ঘিরে এ ধরনের গোশত সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির মেয়াদ থাকে এক বছর। সমিতির অন্তর্ভুক্ত প্রতি সদস্য মাসে মাসে সমিতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে ঈদের আগে জমাকৃত অর্থ একত্র করে পশু কেনা হয়। ঈদের দিন বা তার দু-একদিন আগে এই পশু জবাই করে গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি গোশত সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারা আরো জানান, সমিতির প্রত্যেক সদস্য সপ্তাহে ১০০ টাকা চাঁদা জমা দেন।
.png)
সাঁথিয়া উপজেলার কুমিরগাড়ী গোশত সমিতির মূল উদ্যোক্তা রতন আলী জানান, তিন বছর আগে তিনি গ্রামের কয়েক বন্ধু মিলে উদ্যোগ নিয়ে এ গোশত সমিতি গঠন করেন। সমিতির মাধ্যমে গরু কিনে মাংস ভাগ করায় কম দামে ফ্রেশ মাংস পাওয়ায় যায়। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। এতে পরের বছর সদস্য সংখ্যা আরো বেড়ে যায়।
তিনি আরো জানান, তাদের সমিতিতে সেক্রেটারি ও ক্যাশিয়ার রয়েছেন। ক্যাশিয়ার বানানো হয়েছে গ্রামের মসজিদের ঈমামকে। প্রত্যেক সদস্যকে পাশবই দেওয়া হয়েছে, তার জমা টাকার হিসাব মিলিয়ে নেয়ার জন্য।
এদিকে, প্রবীণ মাংস বিক্রেতা মাবুদ আলী জানান, ঈদ উপলক্ষে তারা আগে যে মাংস বিক্রি করতেন তা এখন অর্ধেকও হচ্ছে না। কারণ গ্রামে গ্রামে একাধিক গোশত সমিতি হয়েছে। সমিতির লোকজন নিজেরাই গরু-মহিষ কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করেন।
এ ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন পাবনার সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহবুব আলম জানান, গ্রামে গ্রামে এমন সমিতি গঠনের ফলে মাংস ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হচ্ছে। মানুষ ভালো মানের মাংস কম দামে পাচ্ছেন। যা বাজার নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।