গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বিভাগে বর্তমানে ৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম। এর মধ্যে পরিবহনে ৯৬ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪০ জন এবং বাণিজ্যিক বিভাগে ৭১ জনের মধ্যে আছেন ৬ জন।
দিনদিন রেলওয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে লোকবল কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিরামহীন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
.png)
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এ স্টেশনে ট্রাফিক (পরিবহন) ও বাণিজ্যিক দুটি বিভাগে পিএসএম গ্রেড ৩, ওয়াইএম গ্রেড ২, এওয়াইএম গ্রেড ১, এওয়াইএম গ্রেড ২, এওয়াইএফ, এইচটিএনএ, টিএনএ গ্রেড ১, টিএনটিএ গ্রেড ২, টিএনটি ৬ জন, পয়েন্টস ম্যান, ডিইও গেট কিপার ১, গার্ড গ্রেড ১, গার্ড গ্রেড ২, বিএ গ্রেট ২, এইচটিসি, টিসি, এইচটিআর ১, টিআরএ, কল ম্যান, ল্যাম্প ম্যান, স্টেশন পিয়ন, সিল ম্যান, আয়া, এইচজিএ, জিএ, টিওয়াইএ, স্টেশন সহকারী, পার্সেল সহকারীসহ মোট ১৬৭ জন কর্মরত ছিলেন। অবসরসহ নানা কারণে লোকজন চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ৪৬ জন দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
এর মধ্যে ট্রাফিক (পরিবহন) সেক্টরে ৯৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪০ জন। পদ খালি রয়েছে ৫৬টি। আর বাণিজ্যিক বিভাগে ৭১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। খালি আছে ৬৫টি। অবসরে যাওয়াসহ নানা কারণে এ দুই বিভাগে বর্তমানে ১২১টি পদ শূন্য হয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্যিক সেক্টরে বিএ গ্রেট (২) ৯ জন, এইচটিসি ১ জন, টি-সি ৬ জন, এইচটিআর ১ জন, টিআর এ ৩ জন, কল ম্যান ৩ জন, ল্যাম্প ম্যান ৩ জন, স্টেশন পিয়ন ৪ জন, সিলম্যান ৩ জন, আয়া ৯ জন, এইচ জিএ ১ জন, জিএ ৩ জন, টি ওয়াইএ ৪ জন, স্টেশন সহকারী ২ জন ও পার্সেল সহকারী ১ জনসহ ৬৫টি পদ খালি হয়ে আছে।
সেই সঙ্গে ট্রাফিক (পরিবহন) সেক্টরে পিএসএম গ্রেড (৩) ৩ জন, ওয়াইএম গ্রেড (২) ১ জন, এওয়াইএম গ্রেড (১) ৩ জন, এওয়াইএম গ্রেড (২) ৪ জন, এওয়াইএফ ৩ জন, এইচটিএনএ ১ জন, টিএনএ গ্রেড (১) ৩ জন, টিএনটিএ গ্রেড (২) ১ জন, টিএনটি ৬ জন, পয়েন্টস ম্যান ৭ জন, ডিইও ২ জন, গেট কিপার ১, গার্ড গ্রেড (১) ১ জন, গার্ড গ্রেড (২) ১৬ জনসহ ৫৬টি পদ খালি রয়েছে। লোকবলের অভাবে ট্রেন যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় যাত্রীরা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
১৯৮০ সালের পর বদলি, স্বেচ্চায় অবসর গ্রহণের কারণে লোকবলের অভাব দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত ১৬৭টি পদে লোক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন পদে স্টাফ স্বল্পতার জন্য ট্রেন চলাচলসহ স্টেশনে নানা কার্যক্রমে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। লোকবলের অভাবে ট্রাফিক (পরিবহন) ও বাণিজ্যিক বিভাগে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করায় বর্তমানে দায়িত্বরতদের দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ট্রাফিক (পরিবহন) ও বাণিজ্যিক বিভাগের বেশিরভাগ অফিসকক্ষে বর্তমানে তালা ঝুলছে। কোনো কোনো অফিসকক্ষ খোলা থাকলেও নেই লোকজন। আবার কাউকে নিজ দায়িত্বের বাইরে অন্য পদে কাজ করতে দেখা গেছে।
এদিকে প্ল্যাটফর্ম স্টেশন মাস্টার না থাকায় বহু বছর ধরে মো. রাজন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় মাইকিং করে ট্রেন কখন স্টেশনে আসবে, কোথায় আছে এ খবর দিয়ে আসছেন।
স্টেশন প্ল্যাটফর্মের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজন বলেন, বহু বছর ধরে স্টেশনে ট্রেন আসার তথ্য মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়ার কাজটি বিনা মজুরিতে করে আসছি। স্টেশন মাস্টার অবসরে চলে যাওয়ার পর এখানে একজনকে চুক্তিভিত্তিক আনা হয়। একজন লোকের পক্ষে দিন-রাত কাজ করা খুবই কষ্টকর হওয়ায় মানবিক কারণে ট্রেন আসার খবর যাত্রীদের জানাতে মাইকিং করছি। যখন সময় পাই তখনই ট্রেনের খবর যাত্রীদের জানাই।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মচারী মো. আইয়ুব আলী যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে রেলওয়ের লোকবল নিয়োগের দাবি জানান।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুন্নবী বলেন, এ জংশন স্টেশনে পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে জনবল না থাকায় নানা সমস্যা হচ্ছে। লোকবলের অভাবে নিজ দায়িত্বের বাইরে সবারই এখন অনেক কাজ করতে হয়। কাজের চাপের কারণে অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজ পর্যন্ত করা যায় না।
তিনি আরো বলেন, জনবল সংকট থাকার বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।