ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অপহরণের পর ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পুড়িয়ে দেওয়া হয় শিশু নোমানের আঙুল

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০১, ৩ মে ২০২৪
অপহরণের পর ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পুড়িয়ে দেওয়া হয় শিশু নোমানের আঙুল
মায়ের কোলে শিশু নোমান

প্রতিবেশী সেজে ৮ মাসের শিশু আব্দুল্লাহ নোমানকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে পঙ্গু বানিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পুড়িয়ে দেওয়া হয় হাতের পাঁচ আঙুল। অবশেষে অপহরণের ২৯ দিন পর ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে শিশু নোমানকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অভিযুক্ত নারী আইরিনকে গ্রেফতার করা হয়।  

বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ উত্তর) আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান। এর আগে, বুধবার (১ মে) ময়মনসিংহের চায়না মোড় থেকে অপহরণের ২৯ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ উত্তর) আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর অভিযোগ বেশ পুরোনো। সারাদেশে বিকলাঙ্গ শিশুদের ভিক্ষার নামে ব্যবসা করাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। এরই ধারাবাহিকতায় শিশু নোমানকে অপহরণ করা হয়।

Advertisement

তিনি জানান, শিশু নোমানের বাবা পেশায় পোশাক শ্রমিক। তিনি গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কর্মের সুবাদে পরিবার নিয়ে শিশু নোমানের পিতা মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নাওজোড় এলাকার ফরিদ মিয়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। গত ৩ এপ্রিল বাসা থেকে একই বাসার ভাড়াটিয়া আইরিন নামে এক মহিলা ঐ শিশুকে চুরি করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বাসন থানায় একটি অপহরণ মামলা  করেন শিশুটির বাবা। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। তবে আইরিনের স্বামী মো. আবু সাঈদকে (সুমন) কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপহরণের একমাস পর আসামি আইরিনকে বুধবার ময়মনসিংহের চায়না মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয়।  এ সময় অপহৃত শিশু নোমানকেও উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারী আইরিন শিশুটিকে নিয়ে ছদ্মবেশে ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছিলেন। শিশু নোমানকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আইরিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!