এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম গন্ডছড়া এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় বাড়ির উঠানে থাকা রোমিও ত্রিপুরা তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। শিশু রোমিও ত্রিপুরা সাজেক ইউনিয়নের তুইছুই মৌজার মারলংপাড়ার ফবেন ত্রিপুরার ছেলে।
শিশু রোমিও ত্রিপুরার বাবা ফবেন ত্রিপুরা বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে রাত ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে পিআইসিইউতে রেফার করেন। কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিআইসিইউতে কোনো সিট খালি না থাকায় তাকে সেখানে থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ডেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক লাইফ সাপোর্ট দিতে বলেন। কিন্তু ডেন্টাল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট না থাকায় সেখানে থেকে এশিয়ান হাসপাতালে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ছেলেটা।
.png)
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও পাশের মৌজার হেডম্যান জৈপুই থাং ত্রিপুরা বলেন, রোমিওর বাবা গরিব জুম চাষি। তার পক্ষে দীর্ঘদিন ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না। তারপরও বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় এত দিন চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। দ্বিতীয় দফা অপারেশনের পর আইসিইউ না পেয়ে রোমিও মারা গেছে বলে তিনি শুনেছি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাজেকে দুর্গম গন্ডাছড়ায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পাহাড়ি আঞ্চলিক দুই দলের গোলাগুলিতে রোমিও ত্রিপুরা আহত হন। পরে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাজেক অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ও খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের আর্থিক অনুদানে দীর্ঘ ৩ মাস চট্টগ্রাম মেডিকেলে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের তত্বাবধানে রোমিও ত্রিপুরার চিকিৎসা চলে।