বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ খোলা আকাশের নিচে, ফুটপাতে তাদের আশ্রয়ের অবলম্বন হারিয়েছে। সোমবার সারাদিন কাজের জন্য বাইরে বেরিয়ে মানুষ অতিরিক্ত রিকশা ভাড়ায় নাকাল হয়েছে। বাস চলাচলও ছিলো কম। সাধারণ মানুষ সহসা ঘর হতে বের হয়নি।
ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি, গাছপালা লন্ডভন্ড ও উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাস এখনো অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব মহাসড়কে যান চলাচল কম ছিলো। গাছপালা ও গাছের ঢাল ভেঙে অনেক গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের তারের ওপর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়া, খুঁটি হেলে পড়া, ট্রান্সমিটার বিকলসহ বিভিন্ন স্থানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রোববার রাত থেকে বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুর সদর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পৌরসভা ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ চালু করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ বাবর বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে জেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ঝড়ে ফরিদপুরে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, চরভদ্রাসনে দুটি বাড়ি ও কিছু জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়া ও ডালপালা ভেঙে গিয়েছে। এছাড়া কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। সেখানে অতিদ্রুত বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে জেলা প্রশাসকের টিম বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং করছে। আশা করছি, জনগণের কোনো সমস্যা হলে আমরা দ্রুত রেসপন্স করতে পারবো।