ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘কালো বোরকা পরে’ বাড়িতে ডাকাতের হানা, ২ জনকে কুপিয়ে হত্যা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৫, ২৮ মে ২০২৪
‘কালো বোরকা পরে’ বাড়িতে ডাকাতের হানা, ২ জনকে কুপিয়ে হত্যা
ছবিতে আরাফাত ও পাশে তার দাদি হামিদার মরদেহ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতের দল দাদি ও নাতিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক নাতনিকে রাতে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পশ্চিম রাধাসার বকাউল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ডাকাতের হামলায় নিহতরা হলেন, বকাউল বাড়ির ইউসুফের ছেলে শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত (১২) ও তার দাদি হামিদা (৭০)।

Advertisement

এ ঘটনায় ইউসুফের মেয়ে শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমাকে (১৪) কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতের দল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

ওই গ্রামের খান বাড়ির বাবলু জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আরাফাতের মা শাহিনা আমাকে ফোন করে জানান, তাদের বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে এবং অনেককে কুপিয়েছে। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে বকাউল বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে প্রচার করা হয়। পরে আমিসহ কয়েকজন ওই বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি প্রবাসী ইউসুফের মায়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। তার ছেলে আরাফাত ও মেয়ে হালিমা নিচে আহত অবস্থায় নিচে পড়ে আছে। তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। 

এরপর স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও অন্যদের সহযোগিতায় আহতদের অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে আসি। আসার পথেই আরাফাত মারা যায়। হাসপাতাল থেকে আরাফাতের বোন হালিমাকে কুমিল্লায় রেফার্ড করা হয়। শুনেছি সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। তার পিঠে ও বুকে কোপ দেওয়া হয়েছে।

অটোরিকশা চালক জহির জানান, রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। আনুমানিক সাড়ে ১২টার পরে আমার বাড়িতে আহত আরাফাত ও তার বোন হালিমাকে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে আমার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে তাদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

একই বাড়ির সাহাবুদ্দিন জানান, ডাকাতির ঘটনায় ফোন পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে যাই। আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা জানান, তার ঘরের তালা ভেঙে সেখানেও ডাকাতদল প্রবেশ করেছে। সে অন্য একটি রুমের দরজা আটকিয়ে বিভিন্ন জনকে ফোন করে বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে বলে জানাচ্ছিল। ডাকাত দল কালো বোরকা পরে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও ৩টি বিল্ডিং রেখে কেন ডাকাতদল টিনের ঘরে ডুকলো? ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্য ওই ঘরে প্রবেশ করলে, ঘর থেকে কোনো স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যায়নি। এমনকি নিহত বৃদ্ধা হামিদা বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানে স্বর্ণের দুল থাকলেও তা নেয়নি কেউ।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিতে ডাকাতির খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!