ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মৃত ব্যক্তিদের নামে ঋণ দেখিয়ে ব্যাংক হরিলুট!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৩, ১৪ জুন ২০২৪
মৃত ব্যক্তিদের নামে ঋণ দেখিয়ে ব্যাংক হরিলুট!
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কেশবপুর কৃষি ব্যাংক শাখায় ভুয়া নামে একাধিক ব্যক্তির নামে কৃষি ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয় মৃত ব্যক্তির নামে ঋণ দেখিয়ে টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হতভম্ব ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে উপজেলাজুড়ে।

জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার আগে একজন মাঠ কর্মকর্তা ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তি ও ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠাবেন। ব্যবস্থাপক ফের সবকিছু যাচাই-বাছাই করবেন এবং ঋণ গ্রহীতা ব্যবস্থাপকের সামনে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর অথবা টিপসই দিয়ে ঋণের চেক গ্রহণ করবেন। কৃষি ব্যাংকের  কেশবপুর শাখার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ।

ওই ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউপির কালিকাপুর গ্রামের কেতাব উদ্দিন হাওলাদার তিন ছেলে জবেদ আলী, হযরত আলী ও রহম আলী ২০১৪ সালে কৃষি ঋণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জবেদ আলীর নামে রয়েছে ২৫ হাজার ও ৩০ হাজার টাকার দুটি কৃষি ঋণ। অপর দুই ভাই হযরত আলীর নামে ৪৫ হাজার ও রহম আলীর নামে রয়েছে ৫০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ।

Advertisement

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেতাব উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে জবেদ আলী ১৯৬০ সালে, হযরত আলী ১৯৬৫ সালে ও রহম আলী ১৯৬৬ সালে মারা গেছেন।

ওই গ্রামের মো. আবুল মৃধা (৭৫) ও মো. গোঞ্জর আলী হাওলাদার (৮২) নামে দুই ব্যক্তি জানান, তারা (জবেদ, হযরত ও রহম আলী) বয়সে তাদের চেয়ে অনেক বড় ছিলেন। মারা গেছেন দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে। তাদের নামে ২০১৪ সালে কৃষি ঋণ অসম্ভব। 

জবেদ আলীর নাতি মো. ফকরুল ইসলাম জানান, তার জন্ম ১৯৬৭ সালের ১ জুন। তিনি তার দাদাকে দেখেননি। তার নামে ২০১৪ সালের কৃষি ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়ে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যান।

একই গ্রামের আহম্মদ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জয়নাল হাওলাদার মারা গেছেন ১৯৬৯ সালে। তার নামে ২০১৪ সালে ৪০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ রয়েছে।

জয়নাল হাওলাদারের ছেলে আবুল বশার (৬৪) জানান, তার বাবা যখন মারা গেছেন, তখনতো এই ব্যাংকই ছিল না।

মো. মনির হোসেন জানান, তিনি কোনোদিনও ওই ব্যাংকে যাননি। অথচ তার নামে ২০১৪ সালে ১৪ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।

একই গ্রামের মো. ছত্তার মৃধার ছেলে মো. বাবুল মৃধা ঢাকায় থাকেন। তিনি কোনোদিনও কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নেননি। অথচ তার নামে কৃষি ব্যাংক কেশবপুর শাখায় ২০১৪ সালে ১৭ হাজার টাকা কৃষি ঋণ উত্তোলণ দেখানো হয়েছে।

তারই ছোট ভাই মো. ফারুক হোসেন মৃধার (৪২) নামে একই ব্যাংকে ২০১৪ সালে ৭৫ হাজার ও ১৭ হাজার টাকার দুটি কৃষি ঋণ রয়েছে। ২০১৪ সালে আ. করিম মৃধা নামে এক ব্যক্তির ৩৫ হাজার টাকার কৃষি ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে । তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মো. রুস্তুম আলী মৃধা। অথচ এমন পরিচয়ের কোনো ব্যক্তি কালিকাপুর গ্রামে নাই। এ রকম নামে ও বেনামে কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তির নামে ওই ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পটুয়াখালীর মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশফাকুর রহমান বলেন,‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।’

কেশবপুর শাখার ব্যবস্থাপক হুসাইন মো. তাইফ আলম জানান, তিনি চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেছেন। এ বিষয়টি সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন তার কার্যালয়ে এসে জানিয়েছেন। এরপরে খোঁজ নিয়ে দেখেন ঋণগুলো ২০১৪ সালের। ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা মাঠকর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন মাঠকর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান জানান, ২০১৪ সালের ঋণ হয়ে থাকলে তার সময়ে হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে অবসরে চলে গেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, কোনো মৃত্যু ব্যক্তি ও নামে-বেনামে কাউকে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ তিনি করেননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!