রাসেল ভাইপার আতংকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫ দিনের ব্যবধানে ৬ টি রাসেল ভাইপার ধরা পড়েছে। উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন, গাওদিয়া, হলদিয়া, কুমারভোগ ও মেদেনীমন্ডল ইউনিয়নের পৃথক পৃথক গ্রামে এ রাসেল ভাইপার ধরে পড়ে।
বিষধর এ সাপের ভয়ে আতংক বিরাজ করছে উপজেলা জুড়ে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে রাসেল ভাইপার। সবার মুখে মুখেই এখন কেবল রাসেল ভাইপার। সর্বত্র আতংকের নাম হয়ে উঠেছে বিষধর এ সাপ।
এদিকে, শনিবার রাসেল ভাইপার থেকে সতর্ক থাকতে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাসেল ভাইপার সম্পর্কে সর্তকতা অবলম্বন নিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
.png)
জানা গেছে, সর্বশেষ শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হলদিয়া ইউপির হলদিয়া গ্রামে ১টি রাসেল ভাইপার ধরা পড়ে। শুক্রবার (২১ জুন) মেদেনীমন্ডল ইউপির মেদেনীমন্ডল ও শিমুলিয়া ফেরীঘাট এলাকায় ২টি রাসেল ভাইপার ধরেন স্থানীয়রা।
এছাড়া বৃহস্পতিবার (২০ জুন) গাওদিয়া ইউপির শামুরবাড়ি গ্রামে, বুধবার (১৯ জুন) লৌহজং-তেউটিয়া ইউপির ঘোড়দৌড় বাজার এলাকায় এবং মঙ্গলবার (১৮ জুন) কুমারভোগ ইউপির চরে ১টি করে রাসেল ভাইপার ধরে পড়ে।
অন্যদিকে, গত বুধবার লৌহজং-তেউটিয়া ইউপির ঘোড়দৌড় বাজারে এলাকার পদ্মার তীরে যে রাসেল ভাইপার ধরা পড়ে, সেটি ধরেন স্থানীয় সাপুড়ে তারু বেঁদে।
তিনি জানান, কয়েকদিনে ধরা পড়া রাসেল ভাইপারগুলো স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন। তবে তিনি যে রাসেল ভাইপার ধরেছেন সেটি এখনো তার কাছে রয়েছে জীবিত অবস্থায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ওই রাসেল ভাইপার ধরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
লৌহজং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তপন বলেন, পদ্মা তীরের গ্রামগুলোতে রাসেল ভাইপারের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ধরাও পড়েছে। এছাড়া গ্রামগুলোতে আতংক বিরাজ করছে।
যে কোনো প্রজাতির সাপে কামড়ালে আতংকিত না হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম।
তিনি বলেন, রাসেল ভাইপার কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয়-এ তথ্য সত্য নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করতে পারলে বেশির ভাগ রোগীই বেঁচে যান। জেলা শহরের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম তথা বিষ প্রতিষেধক সরবরাহ রয়েছে। কাজেই আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বিষধর এ সাপ থেকে সতর্ক থাকার জন্য পদ্মা তীরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে মাইকিং করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাইকিং করে সেখানকার বাড়ি-ঘর ও বসতভিটের আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করতে বলা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় বেশ কয়েকটি রাসেল ভাইপার ধরা পড়ার খবর পেয়েছি। এরইমধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশসহ রাস্তাঘাটের ঝোপ-ঝাড় কেটে ফেলে পরিষ্কার করা হচ্ছে।