ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কয়েক যুগেও হয়নি ব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৪, ১৭ জুলাই ২০২৪
কয়েক যুগেও হয়নি ব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর বক্তারপুর ও তিলকপুর ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে ছোট যমুনা নদী। দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা দড়িটানা নৌকা। প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার মানুষ দুই ইউনিয়নে যোগাযোগ করেন একমাত্র নৌকার ওপর ভর করে। যুগের পর যুগ পার হলেও দুর্ভোগের মুক্তি মেলেনি আজ পর্যন্ত। এলাকাবাসীর দাবি, এই পারঘাটিতে একটি সেতু হলে যেমন ভোগান্তি কমবে, তেমনি গতি আসবে অর্থনীতিতে।

বর্ষা মৌসুমে ছোট যমুনার পানিতে যখন টইটম্বুর তখন এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে কমে আসে পানি। এই দুই মৌসুমে দড়িটানা নৌকার ওপর ভরসা করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। আবার ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকবার নৌকা ডুবে ঘটেছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে বক্তারপুর গ্রাম। গ্রামে রয়েছে হাট-বাজার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, একটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। এই গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দক্ষিণে বাইপাস শীবপুরে এবং আরেকটি ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ত্রিমোহনীতে রয়েছে সেতু। তাই বাধ্য হয়ে দুই পাড়ের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ওই ঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

Advertisement

বক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চাকলা নতুন হাটে নদীর ওপার থেকে লোকজন এসে বাজার করে নিয়ে আবার ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। এখানে ব্রিজের খুব দরকার। কারণ পাশে যে একটা ব্রিজ আছে সেটা প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে আরেকটা ২ কিলোমিটার দূরে এতে করে শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। চাকলা ঘাটে ব্রিজ হলে হাটটাও জাঁকজমক হবে আবার অন্যদিকে ওপারের বাসিন্দারাও খুব সহজে পারাপার হতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, এপারে স্কুল থাকায় ওপার থেকে নৌকা পার হওয়ার সময় ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার এপারে চাকলা হাট আছে সেখানে প্রতিদিন বিকেলবেলা মানুষজন বাজার করতে আসে। এ জন্য ওখানে দ্রুত একটা ব্রিজ দরকার।

চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চৌতি বলেন, আমি চাকলা প্রাইমারি বিদ্যালয় থেকে এপারে যাতায়াত করছি, প্রায় ৯ বছর ধরে এপারে পড়াশোনার জন্য ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেক সময় নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক ভিজে যায়। তাই আমাদের সবার দাবি, চাকলা ঘাটে একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের (বামে), পানিতে টইটম্বুর নদী (ডানে)ইকরতাড়া গ্রামের গৃহবধূ মুক্তা বলেন, আমার ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু একটা ভয় সবসময় কাজ করে। কারণ নদীতে এখন অনেক পানি যদি নৌকা ডুবে যায় তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। এ জন্য সবসময় চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। চাকলা ঘাটে একটা ব্রিজ থাকলে সবার জন্য সুবিধা হতো।

চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে জয়েন করেছি ২০১৪ সালে। তারপর থেকে দেখতেছি এখানে নদীর ওপারের ইকরতাড়া গ্রাম থেকে যে শিক্ষার্থীরা নদীর এপারে আসে তারা নদী পার হওয়ার সময় অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। নদীর ভরা মৌসুমে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা অনেক সময় নৌকা থেকে পড়ে যায়। আমি মনে করি, কর্তৃপক্ষ যদি এখানে একটি ব্রিজ করে দিত, তাহলে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য খুবই সুবিধা হতো। শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য না মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হতো।

চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন-অর রশীদ বলেন, চাকলা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। যার অধিকাংশ নদীর ওপার থেকে অর্থাৎ ইকরতাড়া গ্রাম থেকে আসে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার আবেদন এই যে, এখানে একটা যেন ব্রিজ হয়, ব্রিজ হলে ওপারের শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এপারে বিদ্যালয় আসতে পারবে এবং ভোগান্তি কমবে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার ছোট যমুনা নদীর ওপর চাকলা খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে এগুলো ব্রিজ আমরা নির্মাণ করে থাকি স্থানীয় সংসদের অনুমতিক্রমে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ব্রিজ বাস্তবায়ন করার জন্য হেড কোয়ার্টারে প্রস্তাব প্রেরণ করেছিলাম সেটার এখনো অনুমান পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পাওয়া গেলে আমরা বাস্তবায়ন পর্যায়ে চলে যাবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!