ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাস্তার কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার উধাও, ভোগান্তি চরমে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৮ জুন ২০২৪
রাস্তার কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার উধাও, ভোগান্তি চরমে
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ সময় পার হলেও রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের মানুষদের। সংস্কার কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাই বাধ্য হয়ে টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিবি-৩ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর সড়কের নয়াবাজার থেকে ডেগিরচর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এক কোটি ৭৯ লাখ ২৫ হাজার ২৮১ টাকায় কাজটি পায় মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের মার্চ মাসে রাস্তাটির কাজ শুরু করে কিছু কিছু জায়গায় মাটি ভরাটের কাছ করে। পরে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাস্তাটির কাজ বন্ধ রাখে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সংস্কার কাজ শুরু করা রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় খুঁড়ে রাখায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অপরদিকে, একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাটির জায়গায় জায়গায় পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া, ক্ষেত থেকে কৃষিপণ্য আনা নেয়াসহ শিক্ষার্থীদেরও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

Advertisement

আলমগীর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নয়াবাজার থেকে ডেগিরচর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ ২০২১ সালে শুরু হলেও সেটা এখনো শেষ হয়নি। কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে গেছে। রাস্তার জায়গায় জায়গায় খুঁড়ার কারণে আমাদের আরো সমম্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর বৃষ্টি হলে তো রক্ষা নেই। রাস্তায় পানি জমে কাদা হয়ে অবস্থা আরো খারাপ। যদি আগের মতো থাকতো তাও মানুষজন চলাচল করতে পারতো।

ইজিবাইক চালক শরিফুল ইসলাম জানান, এই রাস্তাটি কয়েক বছর যাবত খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। আগে রাস্তা ভাঙা থাকলেও কষ্ট করে চলাচল করা যেতো। এখন আর সেই সুযোগ নেই। আমরা মালামাল নিয়ে গাড়ি চালাতে পারি না। মাঝে মাঝেই মালামাল নিয়ে গাড়ি উল্টে যায়। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা যাতায়াত করতে পারি না। অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

কৃষক আলমাস আলী জানান, আমাদের এই রাস্তাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। আমাদের এলাকার কৃষকরা কৃষিপণ্য নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। ক্ষেত থেকে সময়মত ফসল আনা ও বাজারে নিয়ে যেতে পারেন না। আর কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া নিয়েও পড়তে হয় বিপদে। গাড়ি তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেই চলাচল করা যায় না। আমাদের এই রাস্তার বেহাল দশা দেখারও কেউ নেই। এছাড়া, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তা দিয়ে দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদেরও চলাচল করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন জানান, তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তাটি খুঁড়ে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। মানুষের চলাচল করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভ্যান, রিকশা কিংবা নসিমনে এই এলাকার কৃষিপণ্যও হাট বাজার নেয়া যায় না। রাস্তাটি নিয়ে এই এলাকার জনগণ খুব ভোগান্তিতে আছে। রাস্তাটি এখন এলাকার জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে যেখানে যেখানে জলাবদ্ধতা হয়, সেখানে নিজেরাই কিছু বালু ফেলেছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হরিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আকন্দ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করতে না পারায় অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। আগের টেন্ডারটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে বাজেটও করা হয়েছে। এখন অনুমোদন পেলেই জেলা অফিস থেকে টেন্ডার দেওয়া হবে। আশা করছি শিগগিরই কাজটি আবার শুরু হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: মানিকগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!