ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কবর থেকে তোলা হলো মিজানের লাশ, নেপথ্যে যে কারণ 

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৩, ৪ আগস্ট ২০২৪
কবর থেকে তোলা হলো মিজানের লাশ, নেপথ্যে যে কারণ 
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে দাফনে সাড়ে সাত মাস পর চার মাস বয়সী শিশু নূর সাফায়েত মিজানের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। শনিবার (৩ আগস্ট) লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি এ কে এম ফজলুল হক কাশেমের দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা বেগমের গর্ভে জন্ম নেয় শিশু নূর সাফায়েত মিজান। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ তুলে নন্দীগ্রাম জুডিশিয়াল আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন সালমা বেগম। আসামি করা হয় এ কে এম ফজলুল হক কাশেমের মৃত প্রথম স্ত্রীর ছেলে জোবায়ের হোসেন সেতু, মেয়ে নূর আফরোজ জ্যোতি ও পুত্রবধূ সাথী আকতারকে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ৪ মাসের শিশু নূর সাফায়েত মিজানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আসামিরা। চলতি বছরের ১৩ মে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেন শিশুটির মা সালমা বেগম। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন। এরপর পিবিআই বগুড়ার এসআই নাজমুল হক মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। তিনি ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেন। আদালত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। 

Advertisement

শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদমান আকিবের উপস্থিতিতে পিবিআই বগুড়ার এসআই নাজমুল হক ডোম এনে নন্দীগ্রাম কচুগাড়ি কবরস্থান থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।

এসআই নাজমুল হক জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাদী সালমা খাতুন বলেন, আমার চারমাস বয়সী সুস্থ শিশুকে আসামিরা শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছি।

এ কে এম ফজলুল হক কাশেম বলেন, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা খাতুন খুব লোভি মহিলা। তার আচরণ একেবারেই ভালো নয়। যে কারণে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। নিজের স্বার্থের জন্য হত্যা মামলা করেছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদমান আকিব জানান, শিশুটির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। এখন ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!