ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জামালপুর কারাগারে ৬ আসামি নিহত

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫০, ৯ আগস্ট ২০২৪
জামালপুর কারাগারে ৬ আসামি নিহত
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর জেলা কারাগারে গোলাগুলি ও আগুন লাগানোর ঘটনার পর এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ছয় বন্দি। এছাড়া আহত হয়েছেন চার কারারক্ষী।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে আজ ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও আগুন দেওয়ার ফলে এ ঘটনা ঘটে। রাতে কয়েদিদের সবাইকে নিজ নিজ সেলে ঢুকানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- জামালপুর সদরের আরমান, রায়হান, শ্যামল, ফজলে রাব্বী বাবু, জসিম ও রাহাত। আহতদের মধ্যে রোকনুজ্জামান, সাদেক আলী ও জাহিদুল ইসলাম।

Advertisement

জেলার আবু ফাতাহ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বন্দিরা কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি করেন কারারক্ষীরা। পরে বিক্ষুব্ধ বন্দিরা কারাগারের ভেতরে দুটি ভবন, জেলারের কক্ষ ও প্রধান গেটের ভেতরে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় বন্দিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন ১০ কারারক্ষী। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে, ওই দিন দুপুরে জামালপুরে কারাবন্দিরা তাদের থাকার জায়গায় আগুন দিয়ে একটি ফটক ভেঙে ফেলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গতকাল থেকে কারাগার এলাকা ঘিরে রেখেছেন।

জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার বন্দিরা দুই ভাগে বিভক্ত হন। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে। তারা দু’পক্ষ মারামারি শুরু করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ প্রথম গেট ভেঙে কারাগার থেকে বের হয়ে আসে। আসামিরা দ্বিতীয় গেট খুলে দেওয়ার জন্য জেলার আবু ফাতাহসহ করারক্ষীদের ওপর আক্রমণ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে উভয়ের মধ্যে গোলাগুলি হলে ছয়জন নিহতসহ চার কারারক্ষী আহত হন। আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের মরদেহ মর্গে।

গতকাল থেকে শুরু হওয়ার ঘটনায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন সতর্ক অবস্থায়। বর্তমানে জামালপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন ৬৬৯ জন বন্দী। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১০০ জন। এছাড়া ওই কারাগারে কোনো জঙ্গি নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান বলেন, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!