ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরের আলোচিত টিএসআই রফিক দম্পতির সম্পত্তি জব্দ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২২ আগস্ট ২০২৪
যশোরের আলোচিত টিএসআই রফিক দম্পতির সম্পত্তি জব্দ
টাউন ইন্সপেক্টর (টিএসআই) রফিক। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের বহুল আলোচিত সাবেক টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঝরণা ইয়াসমিনের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রফিকুল ইসলাম বর্তমানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন।

জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের স্পেশাল পিপি মো. সিরাজুল ইসলাম। এর আগে, গত মঙ্গলবার সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা দায়রা ও জজ) আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

Advertisement

দুদকের স্পেশাল পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, যশোরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঝরণা ইয়াসমিনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত ক্রোকের আদেশ দেন। ক্রোকের আদেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশনা মেনে দুদক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ক্রোকের আদেশ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল মৌজাতে ১৮৩ দশমিক ০৪ শতক জমি। একই উপজেলার পাইকেরডাঙ্গা মৌজাতে ৬৭ শতক, সর্বমোট ২৪৯ দশমিক ০৪ শতক জমি। যার মূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯২৫ টাকা।

রফিকের স্ত্রী ঝরণা ইয়াসমিনের গোপালগঞ্জ পৌরসভার খাটরা মৌজাতে ৭ শতকের মধ্যে ২ দশমিক ৩৩ শতক, অবশিষ্ট তার শ্যালিকার নামে ক্রয় করা। জমিটির মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৬ টাকা। স্থাপনার মূল্য ১ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৬ টাকা।

যশোর পৌরসভার বারান্দি মৌজায় ৬ দশমিক ৬৭ শতক জমি; যার মূল্য ১৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। স্থাপনার মূল্য ৯১ হাজার ৬১ হাজার ৬৯৭ টাকা।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সেনপাড়া পার্বত্য মৌজাতে ৮ দশমিক ২৪ কাঠার ০০৯০ দশমিক ৬ অযুতাংশ; জমির মূল্য ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৭১ টাকা। ফ্লাট নির্মাণ ৫০ লাখ টাকা। ঢাকা জেলার বিলামালিয়া মৌজাতে ৬ দশমিক ৫০ শতক; যার মূল্য ৮৮ হাজার টাকা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মুজগুন্নি আবাসিক মৌজাতে ০ দশমিক ০৬৬১ একর। যার মূল্য ১০ হাজার টাকা। খুলনা ফুলতলার ৯ নম্বর মশিয়ালিতে ৭ শতক; যার মূল্য ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের হড়গ্রাম মৌজাতে ০ দশমিক ০০৩০৮ একর; মূল্য ১০ লাখ টাকা। যশোর পাগলাহ মৌজাতে ১৯১ শতক জমির মূল্য ১১ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। খুলনার ফুলতলা মশিয়ালি মৌজাতে এক একর এর ১/২ ৫০ শতক স্ত্রীর নামে; বাকি অংশ শ্যালিকার নামে ক্রয় করা। যার মূল্য ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা, অবশিষ্ট মূল্য ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। যশোর কোতোয়ালির পাগলাদাহ মৌজাতে ৮৫ শতক জমি; যার জমির মূল্য ৪০ লাখ ১১ হাজার ৭০০ টাকা। স্থাপনার মূল্য ৮৯ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা। যশোর পৌরসভার বারান্দি মৌজাতে ১ দশমিক ০৩৮ শতক জমির মূল্য ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। স্থাপনার মূল্য ৯২ লাখ ৩ হাজার ৬৪৭ টাকা। একই স্থানে ৬ দশমিক ৫০ শতকের বাড়ির মূল্য ৩৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। মোট ৪২৯ দশমিক ৫৪৪ শতক জমি; যার মোট মূল্য৫ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ টাকা।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেনের আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দ্বারা সম্পদ অর্জন করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তার ও তার স্ত্রী ঝরণা ইয়াসমিনের প্রতি সম্পদ বিবরণী নথি জারি করা হয়।

তাদের দাখিলকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঝরণার নামে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে সাততলা বিল্ডিং, যশোর শহরে একটি ছয়তলা ভবন, দুইতলা মার্কেট ও একটি দোকান বিল্ডিং। ঢাকাতে ফ্লাট, রাজশাহী শহরে বাড়ি এবং খুলনাতে জমি ও ফ্লাটসহ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ তিনি অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে প্রমাণসহ জানা গেছে।

অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তা বেহাত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধনী ২০১৯)-এর বিধি ১৮ মোতাবেক বর্ণিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা একান্ত প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: যশোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!