মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমাচ হোসেন মৃধা এ দণ্ডাদেশ দেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
.png)
মামলার বিবরণে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের শড়াতলা গ্রামের ইকলাছ শিকদারের কন্যা আছিয়া খানমের সঙ্গে একই গ্রামের লিটু শেখের ছেলে রনি শেখের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বায়েজিদ নামে ৩ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পুত্র সন্তানের বয়স ৬ মাস হলে পারিবারিক কলহের কারণে রনি শেখ তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনকে তালাক দেন। ৩ মাস পর স্থানীয়ভাবে সালিশ মীমাংসার পর রনি শেখ পুনরায় আছিয়া খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
আছিয়ার মা রেবেকা খাতুন তাদের সুখের কথা চিন্তা করে রনি শেখকে সড়াতলা উত্তরপাড়ায় ৯ শতক জমি প্রদান করে এবং পাকা বসতবাড়ী নির্মাণ করে দেয়। স্বামী রনি শেখ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রনি শেখ পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। সেখানে ৭-৮ দিন অবস্থান করে পুনরায় উভয়ই বাড়িতে ফিরে আসেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রনি ও তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও পারিবারিক কলহ বিরাজ করে। এক পর্যায়ে রনি শেখ তার ঘনিষ্ট বন্ধু একই গ্রামের জামির ফকিরের ছেলে মো. মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে আব্বাস ফকির পরামর্শ করে লোহাগড়া আলা মুন্সির মোড় থেকে ২ লিটার পেট্রল কিনে নিয়ে রনি বাড়িতে নিয়ে রাখে। ঘটনার দিন ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘরে প্রবেশ করে স্বামী রনি শেখ ও বন্ধু আব্বাস ফকির ফ্লোর মোছার স্টিলের মপ দিয়ে আছিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে খাট থেকে মাটিতে পড়ে যায়। ঐ সময় মো. রনি শেখ ও মেহেদী হাসান হৃদয় আব্বাস ফকির প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আছিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এরপর রান্না ঘর থেকে বটি এনে আছিয়া খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে আছিয়া খাতুনের লাশ খাটের ওপর উঠিয়ে পেট্রল গায়ে ও খাটের ওপর ঢেলে আগুন ধরিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। আছিয়ার ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এ সময় দগ্ধ অবস্থায় আছিয়া খাতুনের গলা কাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এ ঘটনায় পিতৃহীন আছিয়ার মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার সাবেক ওসি ওবাইদুর রহমান তদন্ত করে রনি ও তার বন্ধু মেহেদীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় ২৭ জনের সাক্ষী গ্রহণ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন পিপি সৈয়দ এমদাদুল ইসলাম ও আসামিদের পক্ষে পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার ঘোষ ও অ্যাডভোকেট নেওয়াজ মাহমুদ তুহিন।
এদিকে মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ায় খুশি বাদীপক্ষের লোকজন। আসামিদের আত্মীয় সবুজ জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।