গত ২৭ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর ১০ ইউপি সদস্যের দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাসান খুররম ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইউপি সদস্যদের সব প্রকার সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পরিষদ পরিচালনা ও নানা অনিয়ম করে আসছেন।
বাজিতখিলা বাজারে পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন বিক্রি করে ২৫ শতাংশ জমির ওপর নতুন করে মার্কেট নির্মাণ করে ২৪টি দোকান ভাড়া দিয়ে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা জামানত নিলেও তা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া নিজের পক্ষের ইউপি সদস্যকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন।
.png)
গত ৩ অর্থবছরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৬০০ লাইসেন্স বিক্রি করে ৩২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। টিআর, কাবিটা, জিআর প্রকল্প দিয়ে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিষদের জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদপত্র, নাগরিকত্ব সনদ এবং ট্যাক্স যথাযথ আদায় করে তার কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই নিজেই ভোগ করেছেন। এছাড়া গর্ভবতী কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ ৪০ দিনের কর্মসূচির নামে আত্মীয়-স্বজনের নাম দিয়ে টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউপি সদস্য লাল মিয়া, আব্দুল হালিম ও আমিনুল ইসলাম ফকির বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আয় সঠিকভাবে রাজস্ব খাতে জমা দেন না চেয়ারম্যান। আমরা চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাসান খুররম বলেন, এগুলো সব ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট। এর কোনো সত্যতা বা ডকুমেন্টস নেই। যে ১০ জন ইউপি সদস্য অভিযোগ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে আমার কাছে লিখিত দিয়েছেন যে, তারা অন্য কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন। কতিপয় ইউপি সদস্য তাদের স্বাক্ষর জাল করেছেন। আমি নিয়মের বাইরে কোনো কাজ না করে দেওয়ায় এখন ৩ জন ইউপি সদস্য এমন অভিযোগ করছেন।
শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সেটি সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দিই। যেহেতু স্থানীয় সরকারের বিষয়, তাই অভিযোগটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তদন্ত হবে।
শেরপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, অভিযোগটি এখনো দেখতে পারিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।