শিবচর থানার নিলখী ইউনিয়নের চরকামার কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনাও হলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি জানা জানা হয়। পরে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্তরা। যদিও এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছে থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিবচরের নিলখী ইউনিয়নের চরকামার কান্দি গ্রামের আনোয়ার মাদবরের স্ত্রী আছুরা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশি রশিদ মাদবরের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন আছুরা। বর্তমানে আদালতে মামলাটি বিচারাধীন।
.png)
এরই জেরে বুধবার রাতে রশিদ মাদবর তার ছেলেদের নিয়ে আছুরার বসতঘরে হামলা চালায়। পরে মারতে মারতে আছুরা ও তার ছেলে সাজ্জাদ মাদবরকে ঘর থেকে বের করে দেন রশিদ মাদবর। এরপর রশি দিয়ে মা ও ছেলেকে উঠানের পাশের গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর কাপড় ভরে দেন প্রতিপক্ষ।
লাঠি দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আছুরা ও সাজ্জাদকে ভর্তি করা হয় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পলাতক রয়েছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার। নির্যাতিতা আছুরা বেগম বলেন, আমাকে ও আমার ছোট ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর কিছুক্ষণ লাঠি দিয়ে পেটায়। পরে আমার ছেলে পানি চাইলে পানিও দেয়নি। উল্টো মুখের মধ্যে বাঁশ ঢুকিয়ে দেয়।
তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের সামনে মাকে মারে, মায়ের সামনে ছেলেকে মারে। এমন দৃশ্য দেখার মতো না। পরে আমার চিৎকারে পাশের লোকজন আসলে ওরা চলে যায়। আমি ওদের বিচার চাই।
নির্যাতিতার ছেলে সাজ্জাদ বলেন, আমার মা ও ভাইকে মেরেছে কিন্তু আমি সঠিক বিচার পাচ্ছি না। থানায় অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তারা ক্ষমতাশালী লোক। প্রভাবশালীদের দিয়ে ফোন করিয়ে সবকিছু থামিয়ে দেয়।
একাধিক এলাকাবাসী জানান, এমনভাবে মা ও ছেলে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা আগে কেউ কোনোদিন দেখেনি। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় রশিদ মাদবর ও তার ছেলে অসহায় পরিবারটির ওপর এমন নির্যাতন করার সাহস পেয়েছে। এর কঠিন বিচার হলে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবে না।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ এজাহার দায়েরর পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।