ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জলাবদ্ধতায় দেড়শো হেক্টর জমির ফসল নষ্ট 

মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১৭:৪০, ৩ নভেম্বর ২০২৪
জলাবদ্ধতায় দেড়শো হেক্টর জমির ফসল নষ্ট 
৯১০ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কয়েক দফায় ভারী বর্ষণে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও সলিমপুরের প্রায় ৯১০ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে টানা ২২ দিনের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এসব জমিতে আবাদ করা আমন ধান, লাউ, করলা, গাজর, শিমসহ কৃষকদের দেড়শো হেক্টর জমির ফসল ও শীতকালীন আগাম সবজি পরিপূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মূলত এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বাঘহাছলা, শেখপাড়া, মুলাডুলি মধ্যপাড়া ও গোয়ালবাথান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত হেক্টর জমিতে আমন ধান, আগাম শিম, লাউ ও বেগুন আবাদ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেখানেই দেখা যাচ্ছে শুধু শীতের আগাম সবজির আবাদ। বেশির ভাগ কৃষকই শিম গাছ পরিচর্যা, সার-বীজ প্রয়োগ ও শিম সংগ্রহ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে শিমের ফুল ও ডগা পরিচর্যার কাজ করছেন।

জানা গেছে, তিন দফায় ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার ৯১০ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও সলিমপুর ইউনিয়নের শুধু ১২০০ হেক্টর জমিতে শিম, ৭৫০ হেক্টর জমিতে গাজর, ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করছেন কৃষকরা। দুর্যোগ কাটিয়ে ফুলকপি,বাঁধাকপি, মুলা, শসা, ঢেঁড়স, লালশাকসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।

Advertisement

মুলাডুলির বাঘহাছলা গ্রামের কৃষক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমি পাঁচ কাঠা জমিতে লাউ ও শিম আবাদ করেছিলাম। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে টানা ১৫-২০ দিনের জলবদ্ধতায় সব গাছ মরে গেছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এখন রসুন ও ভুট্টা আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আরেক কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে থাকে। এবার যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে একমাসের আগে এই পানি নামবে না। আমার ৫ বিঘা জমিতে শসা, শিম ও বেগুন গাছ রোপণ করেছিলাম। সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে অর্ধেকের বেশি গাছের গোড়া পচে গেছে। বিশেষ করে আগাম শিম চাষিদের বুকে এবার বোবা কান্না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, উপজেলার মুলাডুলি ও দাশুড়িয়াতে জলাবদ্ধতার সমস্যাটা বেশি। আমরা কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৫ কিলোমিটার ক্যানেল তৈরি করে দেওয়া হবে। আর এবারের জলাবদ্ধতার কারণে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাদের কৃষি প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: ঈশ্বরদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!