দুর্গাপূজার ঠিক একমাস পর দুর্গা প্রতিমার আদলেই প্রতিমা তৈরি করে প্রতিবছর কাত্যায়নী পূজা পালন করা হয়। মূলত দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও মাগুরায় এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। মাগুরায় কার্ত্যায়নী পূজাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পালন করে আসছেন এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এ উপলক্ষে রাতভর লাখো মানুষের ঢল নামে মাগুরায়।
এ জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের পুরোনো। দিনব্যাপী এই পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দিরে চলবে মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা। পূজা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী সব ডেকোরেশন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এ বছরের কাপড় ও সেলাইয়ের কাজের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানা রকম আলোকসজ্জা দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। অধিকাংশ গেটেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেব-দেবীর চলমান ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ডিসপ্লের মাধ্যমে মন্দির গুলিতে ঈশ্বরের মাহাত্ম্য প্রচার করা হচ্ছে।
.png)
মাগুরা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, এই বছর মাগুরা জেলায় মোট ৮১টি মণ্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি কেটে গিয়ে রোদ্রউজ্জ্বল আবহাওয়ায় প্রতিমাগুলো আকর্ষণীয় রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শহরের প্রতিটি কাত্যায়নী মণ্ডপকে সাজানো হয়েছে আকর্ষণীয় সাজে। মণ্ডপ প্রাঙ্গণের সামনে থাকছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জা। তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল প্রবেশ দ্বার। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে প্রতিটি প্যান্ডেলে আলোকসজ্জা চলবে রাতভর। পূজা প্যান্ডেলের এই আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা দেখতে এরইমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসতে শুরু করেছেন দেশি-বিদেশি ভক্ত দর্শকরা।
পূজা উপলক্ষে মাগুরা জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছেন বলে জানা গেছে।